শনিবার | ১৮ অগাস্ট, ২০১৮
বর্তমান পাহাড়ের পরিস্থিতিতে ইউপিডিএফ-এর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি

শক্তিমান চাকমাসহ ৬জন হত্যার ঘটনায় তদন্ত দাবি ইউপিডিএফের

প্রকাশঃ ০৫ মে, ২০১৮ ১২:৩৮:০১ | আপডেটঃ ১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ১০:৪৬:১১  |  ১৪১১
সিএইচটি টুডে ডট কম ডেস্ক। ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি আজ শনিবার ৫ মে ২০১৮ সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও জনগণকে শান্ত থেকে ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলাপূর্বক পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্যে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের সংশ্রব পরিত্যাগ করে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যুক্ত হতে জনসংহতি সমিতি (লারমা)-এর কর্মীবাহিনীর উদ্দেশ্যেও আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাঙামাটির নানিয়াচরে আততায়ীর হাতে ৩মে উপজেলা চেয়ারম্যান জেএসএস (লারমা)-এর নেতা শক্তিমান চাকমাকে হত্যা এবং পরের দিন ৪ মে একই এলাকায় বেতছড়িতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের হামলায় নব্য মুখোশবাহিনীর সর্দার তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ নব্য মুখোশবাহিনী ও জেএসএস (লারমা)-এর চার সদস্যের মৃত্যু ও আট জনের জখম হওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক, অনভিপ্রেত এবং রহস্যজনক বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়েছে। তা মেনে নেয়া বিশেষতঃ পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনের নিকট কঠিন হতে পারে বলে মন্তব্য করে ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় কমিটি বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং দোষীদের ধরার নামে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করতেও সরকার-প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনার সাথে ইউপিডিএফ’কে দায়ী করে অপরিণামদর্শী ভাবাবেগ তাড়িত বক্তব্য-বিবৃতি দেয়ারও তীব্র নিন্দা ও আপত্তি জানিয়েছে ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় কমিটি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অশ্রু-রক্তপাত, সংঘাত ও ভূমি বেদখলবিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়,তা নীলনক্সা মাফিক বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, শক্তিমান ও তপন জ্যোতি বর্মাসহ ছয় জনের মৃত্যুর পেছনে আসলে সরকার-কায়েমী স্বার্থবাদী একশ্রেণীর কর্মকর্তাই দায়ী। শক্তিমান-বর্মাওএকসময় জনগণের হয়ে কাজ  করেছিল, দুর্বল মুহুর্তে টোপ দিয়ে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে  তাদের গুটি হিসেবে ব্যবহার করেছে, এটাই হচ্ছে বড় ট্র্যাজেডি।

মিঠুন-প্লুটো-সুনীল বিকাশ ত্রিপুরাসহ ১০ জনকে খুন, বিভিন্ন অপকর্ম বিশেষতঃ হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রী মন্টি-দয়াসোনা’কে অপহরণের ঘটনায় নিজেদের যোগসাজশ অপকর্ম ফাঁস হয়ে পড়লে কায়েমী স্বার্থবাদী চক্র বেকায়দায় পড়ে যায়। নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে যে পন্থায় শাসকচক্র নিজেদের সৃষ্ট দালালদের বলি দিয়ে থাকে, শক্তিমান-বর্মার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হলো না।

সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত ইউপিডিএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়, অপহৃত মন্টি-দয়াসোনা ছাড়া পেয়ে ২৯ এপ্রিল ঢাকায় ১৯নারী-ছাত্র-যুব সংগঠনসমূহের সহায়তায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অপহরণকারীদের পরিচিতি ও প্রকৃত ঘটনাবলী জানিয়ে দেয়। এতে দেশব্যাপী অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে জনমত জোরদার হবার সম্ভাবনা তৈরি হলে, মন্টি-দয়াসোনা’র সংবাদ সম্মেলনের চার-পাঁচ দিনের মাথায় ৩ মে ও ৪ মে রাঙামাটির নানিয়াচরে পর পর দু’টি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি জটিল করে ঘোলা জলে মাছ শিকারের মতলবে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকা-সহ নানা ঘটনা সংঘটিত করা হচ্ছে বলে ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় কমিটি মন্তব্য করেছে এবং গণশত্রুদের গুজব-অপপ্রচার ও সকল অপতৎপরতা ব্যর্থ করে দিয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাহাড়ের রাজনীতি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions