রবিবার | ১৬ জুন, ২০১৯
নিম্ন মানের কাগজ উৎপাদন বন্ধের কথা বলায়

এমডি’র কাছে সিবিএ নেতা লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ

প্রকাশঃ ২০ মে, ২০১৯ ১০:৪৩:৩১ | আপডেটঃ ১৪ জুন, ২০১৯ ০৭:২২:১৬  |  ১৩২
সিএইচটি টুডে ডট কম, কাপ্তাই (রাঙামাটি)। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনাস্থ ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী পেপার মিলস লি. (কেপিএম) এর বর্তমানে খুবই নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেনার ভাড়ে নুয়ে গিয়ে পূর্বের ঐতিহ্য (এশিয়ার বৃহত্তম কাগজকল) হারাতে বসেছে মিল্সটি। দীর্ঘদিন যাবত বকেয়া রয়েছে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন ভাতা। ফলে মানবেতর দিননিপাত করতে হচ্ছে সকলকে। অন্যদিকে, একসময় কাগজ উৎপাদনে খ্যাতি থাকলেও বর্তমানে এই মিল্স হতে উৎপাদন করা হচ্ছে নিম্ন মানের কাগজ। যা ক্রয় করলেও ক্রেতারা পরবর্তীতে আবার ফেরত দিয়ে যাচ্ছে কর্তপক্ষকে। ফলে লোকসান গুনতে গুনতে দিশেহারা সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু কেন এই দূর্গতি, অবস্থার উন্নয়নে কোন ব্যবস্থার প্রতিফল কেন হচ্ছে না? সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের কাছে বারবার ধরণা দিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। একদিকে আকাশ ছোঁয়া দেনা, অন্যদিকে উৎপাদন না থাকায় অনিশ্চয়তা এমনভাবে তাড়া করছে যে শ্রমিক কর্মচারীদের দূর্ভোগের অন্ত নেই। অথচ কেপিএমের ম্যানেজমেন্টের যেন এখনো গাঁ ছাড়া ভাব! মুঠো ফোনে আলাপকালে কেপিএমের সিবিএ সভাপতি মো. আব্দুল রাজ্জ্বাক এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার দুপুরে মিল্সটির এমডির কার্যালয়ে তার নিকট এসব বিষয়ে শ্রমিকদের পক্ষে জানতে চাই আমি আর আমার সিবিএ এর সাধারণ সম্পাদক। এমন প্রশ্ন করার সাথে সাথেই কেপিএম এমডি ডা. এম.এ কাদের  আমাদের উপর হঠাৎ চড়াও হয়। ছুঁড়ে মারতে হাতে নেয় তার টেবিলে থাকা পেপার ওয়েট। অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে আমাদের লাঞ্চিত করেছে।

সিবিএ সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক অভিযোগ করে আরও বলেন,  এমডির কাছে মিল্সের উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বারবার জানতে চাইলে তিনি সর্বদাই বলে থাকেন, আমার কাছে সব বিষয় বলতে আসবা কিন্তু এসব বিষয় বলবেনা। উৎপাদনের বিষয়ে তোমরা কোন কথাই বলবেনা। অথচ কেপিএম তো দেশের জাতীয় সম্পদ, আপনি ইচ্ছা করলেই তো আর এই মিল্সকে মাঠে বসিয়ে দিতে পারেননা। আমরা এখানে থাকতে আপনি তা কোনভাবেই পারবেননা না। এসব কথা বলায় এমডির নিজস্ব বাহিনীর ক্যাডার মফিজ ও ইমনকে দিয়ে আমাদের তার কার্যালয় থেকে অপ্রত্যাশীতভাবে বের করে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি আমরা উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কাপ্তাই থানা ওসি (তদন্ত) নূরুল আলম ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মফিজুল হক বলেন, কেপিএমে বেতন ভাতা দীর্ঘদিন যাবত বকেয়া পড়ে আছে। এই বিষয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শুনেছি একটি মামলাও করা হয়েছে। সিবিএ নেতৃবৃন্দদেরকে এমডি কর্তৃক লাঞ্চিত করার বিষয়টি আমিও শুনেছি। এই বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে এমডির সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন মঙ্গলবার শ্রমিক কর্মচারীদের সাথে উক্ত ঘটনার সমাধানকল্পে জরুরী সভা ডাকা হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল জানান, আমি জানতে পেরেছে তারা এমডির অফিস ঘেরাও করবে। তবে এই বিষয়টি আমি অবগত না।


এদিকে কর্ণফুলী পেপার মিলস লি. এর এমডি ডা. এম এ কাদেরকে বারবার ফোন করা হলেও তার মোবাইলে সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কেপিএমের জিএম প্রশাসন এমকামুল্লাহ খন্দকার, নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদশা আলম সহ আরও অনেকে।

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions