রবিবার | ১৬ জুন, ২০১৯

বাঘাইছড়িতে ৭ খুনের ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি: ঘটনা পরিকল্পিত

প্রকাশঃ ২১ মার্চ, ২০১৯ ০৮:৩১:২১ | আপডেটঃ ১৫ জুন, ২০১৯ ০৫:০৫:৫৮  |  ৫১৬
সিএইচটি টুডে ডট কম, খাগড়াছড়ি।  রাঙামাটির বাঘাইছড়ির ৭ খুনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি জেলা সদর হতে খাগড়াছড়ি সদর হয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পৌঁছান বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলা শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান দীপক চক্রবর্তী বলেছেন, ঘটনাটি একেবারে পরিকল্পিত। যতদূর ধারণা, আগে থেকেই ভারী অস্ত্র নিয়ে ওৎ পেতে প্রস্তুত ছিল হামলাকারীরা।  

১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের পঞ্চম নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যার দিকে সদরে ফেরার পথে দীঘিনালা-মারিশ্যা সড়কের ৯ মাইল  এলাকায় নির্বাচনী কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়িবহরে এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। এতে প্রাণ হারান ৭ জন। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ২৫ জন। তারা সবাই ওই উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন । এ ঘটনার রাত পেরুতে না পেরুতেই পরদিন সকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন, বিলাইছড়ি আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা। দুটি ঘটনা-ই নির্বাচনকেন্দ্রিক বলে ধারণা সূত্রগুলোর।

সূত্র জানায়, ঘটনার পরদিন ১৯ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনায় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের পরিচালক দীপক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে, রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়েজ আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (যুগ্ম সচিব) আশীষ কুমার বড়–য়া, চট্টগ্রাম ৩০ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক মো. নুরুল আমিন, বিজিবি রাঙামাটি সেক্টরের বাঘাইহাট জোনের মেজর আশরাফ ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্যনির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেক আহমদ। কমিটিকে গঠনের পরবর্তী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।  

কমিটির সদস্য সচিব অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রথম কার্যদিবসে বুধবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তারা। এ সময় ঘটনাস্থল ও তার আশেপাশে এলাকা পরিদর্শন ছাড়াও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, আলামত ও তথ্য-উপাত্ত খোঁজেন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়াও ঘটনার দিন নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার, আনসার ভিডিপি সদস্য, নিহতদের পরিবারের সদস্যসহ আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ঘটনাটি ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত। যাতে কাজে লাগানো হয়েছে দিবাগত আঁধারকে। হামলাকারীরা ভারী ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল।


খাগড়াছড়ি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions