বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট, ২০১৯

রাঙামাটি আসবাবপত্র সমিতিতে ভাঙন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশঃ ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৫:৩৮:২০ | আপডেটঃ ২১ অগাস্ট, ২০১৯ ০৭:৩০:০২  |  ৪২৭
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটি আসবাবপত্র ব্যবসায়ীকল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের মধ্যে ভাঙন ধরেছে। যার জেরে দু’গ্রুপের বিরোধ এখন চরমে। পাল্টাপাল্টি বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে উভয় গ্রুপ। এ নিয়ে প্রকাশ্য অভিযোগ করছে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে। বৃহস্পতিবার সকালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে, দিদারুল আলম ও আবদুল ওয়াদুদ গং নেতৃত্বাধীন আহবায়ক কমিটি। 

সকাল ১১টায় শহরের রেইনবো রেস্টুরেন্টে আহূত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন আবদুল ওয়াদুদ। এ সময় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির আহবায়ক দিদারুল আলম, আবদুল খালেক, মহিন উদ্দিন পেয়ারু, আবদুল করিম বালি, জাহাঙ্গীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, সমিতির অযোগ্য ব্যব¯া’পনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম শামীম ও সাধাণ সম্পাদক আবদুল শুক্কুরের নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত। তারা সমিতির বিপুল টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন। তারা নিয়মিত হিসাব-নিকাশ দেন না। নিয়মিত সভা করেন না। সমিতির অফিসে থাকেন না। অফিসে প্রায় সময় তালা দিয়ে রাখেন। বার্ষিক সাধারণ সভাও করেননি। বিভিন্ন অনুদানের নাম দিয়ে নিজেরা সমিতির বিপুল টাকা আত্মসাৎ করছেন। গত এক মাসে সমিতির কাউকে না জানিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যুগ্ম স্বাক্ষরে ৫০৪২৫০৭ নম্বরধারী চেকে ৩ লাখ এবং ৫০৪২৫০৮ নম্বরধারী চেকে ২ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে আত্মসাৎ করেছেন। তাদের এসব অনিয়ম দুর্নীতির কারণে তারা অযোগ্য ও অবৈধ। ফলে আমরা ৩৩৮ সদস্যের সমিতির অধিকাংশ সদস্য মিলে অন্তর্বতী আহবায়ক কমিটি করেছি। ৪ ফেব্রুয়ারি তাদের সংবাদ সম্মেলনে তারা যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক।    

এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি আহূত সংবাদ সম্মেলনে দিদারুল আলম ও আবদুল ওয়াদুদ গংয়ের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, চুরি ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন, সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম শামীম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল শুক্কুরের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ। ওই সময় রাঙ্গামাটি জেলা ও সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও উৎকোচ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন তারা। ওইদিন শহরের কাঠালতলীর সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, সমিতির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ না হওয়া স্বত্ত্বেও এবং বিধি অনুযায়ী সব কর্মকান্ড পরিচালনা করা হলেও দুর্নীতিগ্রস্ত জেলা ও সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার যোগসাজশে রাঙামাটি আসবাবপত্র ব্যবসায়ীকল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতিকে ধ্বংস করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নির্বাচনে পরাজিত কতিপয় কুচক্রী। তারা বিধিবহির্ভূতভাবে একটি অবৈধ অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে আমাদের সমিতিকে ভাঙতে অপচেষ্টা চালায়। পরে আমাদের আপিলে ওই কমিটি বাতিল ঘোষণার জারি করেছে, চট্টগ্রামের বিভাগীয় সমবায় দফতর। মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে এসব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন, জেলা সমবায় কর্মকর্তা ইউসুফ হাসান চৌধুরী ও সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আশিষ কুমার দাশ।



চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমবায় দফতরের যুগ্ম নিবন্ধক আশীষ কুমার বড়–য়ার স্বাক্ষরে জারি করা রায়ের আদেশে বলা হয়, রাঙামাটি আসবাবপত্র ব্যবসায়ীকল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা নির্বাহে রাঙামাটি জেলা সমবায় কর্মকর্তার অনুমোদনে গঠিত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি যথাযথ নয় মর্মে বিবেচিত হওয়ায় তা বাতিল করা হল।

এ বিষয়ে জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা সমবায় কর্মকর্তা ইউসুফ হাসান চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অনিয়ম, দুর্নীতি ও উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমি শুধু একটি এডহক কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলাম। তা পূর্ণাঙ্গ কমিটি নয়। সেটি টাকার বিনিময়ে অনুমোদন করিনি।  

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions