বুধবার | ১০ অগাস্ট, ২০২২

কাপ্তাই লেকের মাছে ২০ শতাংশ শুল্কহার বৃদ্ধি

প্রকাশঃ ০২ অগাস্ট, ২০২২ ০৯:০৬:২৫ | আপডেটঃ ০৯ অগাস্ট, ২০২২ ১০:৫৪:০১  |  ১৭৩
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ হতে আহরিত মাছের শুল্কহার পুননির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন বোর্ড (বিএফডিসি)। পুনর্নিধারণকৃত শুল্কহারের মধ্যে হ্রদে সচরাচর পাওয়া যায়; এমন সব মাছের ওপরই রাজস্ব কর বা শুল্কহার বাড়ল। বিএফডিসির পুননির্ধারণকরা শুল্কহারে গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ শুল্কহার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিএফডিসি; যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) বাস্তবায়ন বিভাগ-১ এর ব্যবস্থাপক মো. মাসুদুল হকের সই করা এক অফিস আদেশে শুল্কহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। গত ২৭ জুলাই কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্র রাঙামাটির ব্যবস্থাপক বরাবর এই অফিস আদেশ প্রেরণ করা হয়। আদেশে বলা হয়, ‘গত ২০ জুলাই রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কাপ্তাই হ্রদ হতে আহরিত মাছের পুননির্ধারণ কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির উক্ত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে কাপ্তাই হ্রদ হতে আহরিত মাছের শুল্কহার বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুননির্ধারণ করা হয়েছে।’

পুননির্ধারণকৃত শুল্কহারে কাঁচা মাছ হিসেবে রুই, কাতল, মৃগেল, চিতল, মহাশোল মাছ ৩ কেজির উপরে হলে শুল্কহার ৪২ টাকা আর ১ থেকে ৩ কেজির মধ্যে হলে ৪০ টাকা এবং ১ কেজির নিচে হলে ২৭ টাকা। আবার কাজরী, গ্রাসকার্প, বোয়াল, ঘনিয়া, নাইলোটিকা, বাঁশপাতা ও বাতাসি মাছের শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা। কৈ, শিং, মাগুর, সাদা টেংরা, বাচা, কালিবাউস ও আইড় মাছ আধাকেজি উপরে হলে শুল্কহার ৪০ টাকা। অন্যদিকে তেলাপিয়া, সুরপুঁটি, সিলভার কার্প ও বিগহেড মাছের শুল্কহার ২৮ টাকা। চাপিলা, কাঁটা মলা, কেচকি, গুড়া মলা, চাঁন্দা, কুঁচু চিংড়ির শুল্কহার ২০ টাকা। ফলি, শোল, গজার, বাইম, টাকি, আধা কেজির নিচে আইড় মাছ, কালো টেংরা, বাটা ও কাকিলা মাছের শুল্কহার ২৭ টাকা পুননির্ধারণ করা হয়েছে। শুকনো মাছ হিসেবে (শুঁটকি) চাপিলা, কেচকি, পুটি, কাঁটা মলা, কুঁচু চিংড়ি, ঠুইট্টা, গুড়া মলা, সরপুটি, কাজরী, কাকিলা  ও বাঁশপাতা মাছের শুল্কহার ৬৩ টাকা। অন্যদিকে তেলাপিয়া, সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, বোয়াল, আইড়, কালি বাউস, কমন কার্প, ঘনিয়া, নাইলোটিকা, বাটা, ফলি, টাকি, শোল ও গজার মাছের ধরা হয়েছে ৯০ টাকা। শুধু রুই, কাতল, মৃগেল, মহাশোল ও চিতলে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হিসাবে ধরা হয়েছে ১৬৬ টাকা। তবে সকল প্রজাতির মাছের মাথার শুঁটকিতে ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি বিপণনকেন্দ্র ব্যবস্থাপক লেফট্যানেন্ট কমান্ডার মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, পুননির্ধারণকৃত শুল্কহার গড়ে সব মাছে ২০ শতাংশের নিচে শুল্কহার বেড়েছে। আগে যে মাছের শুল্কহার ছিল সাড়ে ১৭ টাকা, সেটি এখন ২০ টাকা হয়েছে। জেলে, ব্যবসায়ী, মাছের বর্তমান প্রেক্ষাপটের উৎপাদনসহ নানা দিক বিবেচনায় রেখে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্ধারিত শুল্কহার আমরা বিএফডিসির কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষ সেটি পুননির্ধারণ করে অফিস আদেশ জারি করেছেন। এদিকে, বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের বাজারজাতকরণ কর্মকর্তা মো. শোয়েব সালেহীন জানান, নতুন পুননির্ধারকৃত শুল্কহারের আদেশে কাঁচা ও শুকনো সব ধরণের মাছে ক্ষেত্রেই শুল্কহার বেড়েছে।  বিএফডিসির আদেশে ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ষাটের দশকে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় খর¯্রােতা কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে সৃষ্টি হয় কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদে। রাঙামাটির আট উপজেলা ও খাগড়াছড়ির দুই উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত এই কাপ্তাই হ্রদে সরকারি হিসাবে প্রায় ২৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবার মাছ ধরাসহ সংশ্লিষ্ট পেশায় জীবিকানির্বাহ করে আসছে।


এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions