রাবিপ্রবি’তে বিশ্ব মাৎস্য দিবস পালিত

প্রকাশঃ ২১ নভেম্বর, ২০২৩ ০৯:৩৩:২২ | আপডেটঃ ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ০১:৫১:০৭

সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। আজ ২১ নভেম্বর  রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের আয়োজনে বিশ্ব মাৎস্য দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকালে প্রশাসনিক ভবন-১ থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালীর আয়োজন করা হয়। র‌্যালীটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে দীপংকর তালুকদার একাডেমিক ভবন-১ এসে শেষ হয়।



দিবসটি উপলক্ষে দীপংকর তালুকদার একাডেমিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবি'র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সেলিনা আখতার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফ, বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসোর্স ইন্সটিটিউট, নদী উপকেন্দ্র, রাঙ্গামাটি এর সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার মোঃ ইশতিয়াক হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সেলিনা আখতার উপস্থিত অতিথিবৃন্দের সাথে ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরিকৃত বিভিন্ন প্রজেক্ট ঘুরে দেখেন ।

 

সেমিনারে কী নোট স্পীকার হিসেবে বাংলাদেশের মাৎস্য সম্পদ নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল আলম (শাহীন) এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সরকার।

 

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাঞ্চন চাকমা।

 

কী নোট স্পীকার বলেন, দেশে অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীদের কারণে দিন দিন মাৎস্য সেক্টর ধ্বংস হচ্ছে। জেলেদের বুঝাতে হবে মাছের পোনা ধরা যাবেনা। আর বাজারে বিক্রি করা যাবেনা। এভাবে দেশে মাৎস্য সম্পদ নিরাপদ হবে। দেশে দিন দিন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বিলুপ্ত হচ্ছে। ডিম ছাড়ার পর থেকে মাছ না ধরা এবং মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে অঙ্গীকার করতে হবে নিজেরা বাজার থেকে মাছ কিনবো না। তাহলে জেলে বা ব্যবসায়ীরা বাজারে মাছ বিক্রি করার উৎসাহ পাবেনা। এভাবে প্রতিবছর দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

 

সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার মোঃ ইশতিয়াক হায়দার বলেন, দেশে মাৎস্য সেক্টরে গুরুত্ব অপরিসীম। কাপ্তাই লেকে অনেক প্রজাতির এবং বড় বড় মাছ ছিল। কিন্তু এখন সেগুলো নেই। এখন লেকে শুধু চাপিলা আর কেচকি মাছে ভরপুর। তাই এখানে মাছের বিভিন্ন প্রজাতি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করা দরকার। কাপ্তাই লেকের সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনতে সকলের একান্ত প্রচেষ্টা দরকার। কাপ্তাই লেক দিন দিন দূষিত হচ্ছে। এ দূষিত হওয়ার ফলে কাপ্তাই লেকের দেশীয় প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সরকার বলেন, মাৎস্য সম্পদের ইকো সিস্টেম যে পরিমাণে দূষিত হচ্ছে, সে হারে তা আর পূরণ হবেনা। একসময় বুড়িগংগায় অনেক মাছ পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন আর পাওয়া যাচ্ছেনা। যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলো অনেক দূষিত মাছ, যা খাওয়ার অযোগ্য। ঠিক তেমনি সচেতন না হলে কাপ্তাই লেকের অবস্থা একদিন এরকম হবে যদি আমরা এ লেক এবং লেকের মাছ রক্ষার্থে কাজ না করি ।

 

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সেলিনা আখতার বলেন, যে পেশায় থাকেন না কেন আমাদের মাৎস্য সম্পদকে ভালোবাসতে হবে। তাহলে মাৎস্য সম্পদ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। আর এ সম্পদ রক্ষা পেলে দেশের উন্নয়ন হবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাঞ্চন চাকমা বলেন, কাপ্তাই লেকে মৎস্য সম্পদ নিয়ে ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাজ করতে হবে। তিনি কাপ্তাইকে লেকে মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের মানুষের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, কাপ্তাই লেক দিন দিন অনেক দুষিত হচ্ছে। তিনি এ দুষিত লেককে কিভাবে রক্ষা করা যায় সেজন্য সবাইকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন রাবিপ্রবি’র ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী স্বাধীন ত্রিপুরা এবং ফাতেমা তুজ জোহরা।

 

অনুষ্ঠানে ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক,কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions