রাঙামাটিতে শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে গরুর বাজার, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

প্রকাশঃ ৩০ জুলাই, ২০২০ ০৮:২৪:০৮ | আপডেটঃ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৬:৪০:৩৪
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাঙামাটির পৌর ট্রাক টার্মিনালে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা গরুগুলো কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে রাঙামাটি সদরে আনা হচ্ছে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর তুলনা মূলকভাবে বেশি পরিমাণে কোরবানির গুরুর হাটে গরু উঠেছে। বেচাবিক্রি এখনো জমে ওঠেনি। হাটে ক্রেতা কম। যারা হাটে আসছেন তারা ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু দেখছেন আবার কেউ কিনছেনও। করোনার ভাইরাসের এবছর ছোট গরুর চাহিদা বেশি। গরু কিনে খুশি ক্রেতারা। বিক্রেতারা ভালো দাম পাচ্ছেন না। করোনা ভাইরাসকে দায়ী করছেন গরু ব্যবসায়ীরা। গতবারের মতো এবারও পশুর দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এবছর গরুর দাম বাড়তি বলে অভিযোগ করছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ক্রেতারা।

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পশু কেনাবেচার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাঙামাটি পৌরসভা। গরুর হাটে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা আসছেন। পশু দেখছেন। ব্যবসায়ীরা দাম হাঁকাচ্ছেন। ক্রেতার চাহিদার আলোকে ব্যবসায়ীরা দাম কমাচ্ছেন এবং বাড়াচ্ছেন। ৫০-৭০ হাজার টাকা দামের গরু বিক্রি বেশি। সময়ের সঙ্গে দাম ওঠানামা করবে বলে মনে করছেন সংশিষ্টরা।

প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেককে হাটে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। ২-৩ জন করে একত্রে গরু দেখছেন, দাম শুনছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মাইকিং করা হলেও ব্যবসায়ী-ক্রেতারা কমই তা মানছেন।

বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার থেকে পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় গরু তোলা হয়েছে। তবে দাম হাকানো হচ্ছে চড়া দাম। ব্যবসায়ীরা মনে করছে, অন্যান্য বছর ভাল ব্যবসা করতে পারলেও করোনা তাদের ব্যবসাকে গ্রাস করে নিয়েছে। যে কারণে তাদের ব্যবসা ভাল হবে না।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাঙামাটির বরকল, লংগদু, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর প্রভৃতি এলাকা থেকে কাপ্তাই হ্রদের নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন ইঞ্জিন নৌকা ভর্তি করে কোরবানীর গরু আসতে শুরু করেছে বেশ কদিন ধরে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে কমদামে গরু এনে ভালো লাভে বিক্রি করার সুযোগ থাকায় অনেক গরু ব্যবসায়ী পাহাড়ি এলাকার গরু সংগ্রহ করছেন। জেলা শহরের পৌরসভা ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় বসেছে গরুর হাট। আশানুরুপ গরুর হাট না জমলেও ক্রেতারা গরুর হাটে আসছেন তাদের পছন্দের দামে গরু কিনতে। পাহাড়ের গরু গুলো কৃত্রিম উপায় মোটা তাজা করা হয় না বলে এর রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। তবে করোনার কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা সিংহভাগ মানুষের খারাপ থাকায় ইচ্ছে করলেও গরু কেনা হবে না বেশির ভাগ মানুষের।

গরুর হাটে ক্রেতা সরকারি কর্মকর্তা সালাম মিয়া ও অন্যান্য ক্রেতার কাছে কোরবানির পশুর হাট সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান- এবার প্রচুর পরিমাণে হাটে গরু দেখা যাচ্ছে না কিন্তু তাই কোন অংশেই কমেনি গরুর দাম। গত বছরের ন্যায় এ বছর ছোট, বড়, মাঝারি সব গরুর দাম প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম ছাড়তে নারাজ বিক্রেতারা। যে গরু গত বছর ৪০-৫০ হাজারে পাওয়া যেত সেই গরু এ বছর ৬০-৬৫ হাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে মধ্যবিত্ত পরিবারের কোরবানির গরু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থা সিংহভাগ মানুষের বর্তমানে খারাপ রয়েছে।

গরু খামারি রহমত আলী বলেন, তিনি এইবার হাটে ২০টি গরু তুলেছেন। এই পর্যন্ত মাত্র ৮’টি গরু বিক্রি করেছেন। দাম তেমন ভাল পায়নি। ক্রেতারা খুবই অল্প দাম থেকে দর কষাকষি শুরু করায় তারা একদম শেষ মুহুর্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। এখন লাভ-লোকসান যাই হোক আগামীকালের মধ্যে সবগুলো বিক্রি করতে হবে।’

লংগদু উপজেলার মাইনী এলাকার গরুর খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, এইবার তিনি ৫০টি গরু হাটে নিয়ে আসছেন। এখনো মাত্র ১২টি বিকিকিনি করা হয়েছে। আগামীকালে মধ্যে বিকিকিনি ভাল হবে বলে আশা করছেন তিনি।



স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী জানান, তাদের বড়-ছোট ও মাঝারি ৭০টি গরুর মধ্যে মাঝারি সাইজের ১৬টি গরু বিক্রি হলেও বড় কোনো গরু বিক্রি করতে পারছেন না। হাটের বেশির ভাগ বিক্রেতাই জানালেন, টুকটাক যে গরু বিক্রি হচ্ছে সবই ছোট ও মাঝারি সাইজের। বড় গরুর ক্রেতা এবার নেই বললেই চলে।

এদিকে করোনা মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বারবার স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বলা হলেও হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ স্বাস্থ্য বিধি মানছে না। কারো কারো মাস্ক গলায় ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। কেউ বা মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করছে। হাটে হাত ধোয়ার জন্য নেই কোন সাবান-পানির ব্যবস্থা। হাটে কোন মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে কোন ব্যবস্থা রাখেনি পৌরসভা। যে কারণে কোভিট-১৯ এর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ডিমেতালে চলছে হাটের ব্যবস্থাপনা। তবে নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশি টহলের জোরদার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাঙামাটি পৌর ট্রাক টার্মিনাল গরু-ছাগল হাটের ইজারাদার সাওয়াল উদ্দিন বলেন, পাহাড় থেকে গরু আসছে। তবে ব্যবসায়ীরা সীমিত আকারে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে অস্বীকারের কোন কারণ নাই, কারণ- ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পার্বত্য এলাকার সিংহভাগ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। তাই শহরে তাদের সব গরু বিক্রি করতে পারবেন না। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের আমরা নিষেধ করতে পারবো না। এখানে আমাদের বলার কিছু নেই। তবে স্থানীয় বাজারে গরুর যাতে কোন সংকট না পড়ে সেই জন্য আমরা তাদের অনুরোধ করেছি। যাতে করে রাঙামাটি বাহিরে আর কোন গরু নিয়ে না যায়। তারা আমাদের অনুরোধ রাখবে বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য গরু সংকট পড়বে না। তবে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরু রয়েছে। আশা করি আরও গরু আসবে। গরুর দাম আরো সহনীয় হবে। তবে ক্রেতারা কম দামের আশায় এখনো হাট পর্যবেক্ষণ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়িতে পশু রাখার জায়গা না থাকায় অনেক ক্রেতাই আগে থেকে পশু কেনেন না। ফলে ঈদের আগের দিন ব্যাপক বেচাকেনা হবে তিনি মন্তব্য করেন।




তাছাড়া কোন গরু অসুস্থ্য হয়ে পড়লে আমাদের হাটে মেডিকেল টিম রয়েছে, তারা সর্বক্ষণিক দেখা-শুনা করছে। আর গরু যদি বেচা-কানার অনুপোযোগি হয়ে পড়ে তাহলে আমরা গরু হাটে বিক্রি করতে না পারে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখছি।
 
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর বলেন, হাটে নগদ অর্থের লেনদেনও বেশি হবে। এর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা জোরদার করেছি। পশুর হাটে জাল টাকার বিস্তার রোধেও নিয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। জাল নোট সনাক্তকারী মেশিনও রেখেছি পশুর হাটে। রাঙামাটির পশুর হাটে আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ, সাদা পোশাকে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মাঠে রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. আরিফুর ইসলাম বলেন, রাঙামাটিতে এবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দু’টি হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বের ন্যায় জেলা শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় একটি অপরটি রাঙামাটি মারী স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা। পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রতিনিয়ত মোবাইল কোট পরিচালনা করা হচ্ছে।

সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions