রবিবার | ১৯ অগাস্ট, ২০১৮

ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী আইনে কয়টি জাতিগোষ্ঠী আছে তাদের নাম ও সংখ্যা লিপিবদ্ধ হওয়া দরকার : ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় (ভিডিওসহ)

প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট, ২০১৮ ১১:০৯:৪৬ | আপডেটঃ ১৯ অগাস্ট, ২০১৮ ০৬:৫৭:৫৭  |  ৪১৯০
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সমূহ কাল বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে “আর্ন্তজাতিক আদিবাসী ” দিবস পালন করবে। এই উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেছেন, ক্রমশই আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারের তরফ থেকে আদিবাসী দিবস পালনের বিপক্ষে অবস্থান এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ থাকে অদিবাসী দিবস পালন না করার জন্য।
এক্ষেত্রে আশ্চর্য্যজনকভাবে বাংলাদেশ সরকার এশিয়ার আরো অনেক সরকারের সাথে ব্যতিক্রমধর্মী। এশিয়ার অন্যান্য দেশও আছে যেমন প্রতিবেশী ভারত, মিয়েনমার, থাইল্যান্ড ইত্যাদি। এই ধরনের অনেক দেশেই আদিবাসী নামে তাদের সাংবিধানিক বা রাষ্ট্রীয় আইনে স্বীকৃত নাই, প্রতিবেশী সে সব দেশগুলোতে আমরা আদিবাসী দিবস পালনে কোন বাধা দেখতে পাই না কিন্তু বাংলাদেশ বাধা দেওয়া হয়। কেন বাঁধা দেওয়া হয় জানি না।

ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় আরো বলেন, সমতল সহ পার্বত্য অঞ্চলে কয়টি আদিবাসী গোষ্ঠী কয়টি আছে, তাদের সংখ্যা কতটি, তাদের সঠিক নামগুলো যাতে ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী আইনে আসে। তাদের নামগুলো আইনে আসলে এসব নৃ গোষ্ঠী সমূহের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও প্রতিষ্ঠান ভুমিকা রাখতে পারবে।

তিনি আরো বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামের আভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু পুর্নবাসনে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রম আমরা তেমন দেখি না। যাদের জন্য টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও একজন উদ্বাস্তুকে এখনো পর্যন্ত পুনর্বাসন করা হয়নি ও অর্ন্তবর্তীকালীন কিছুই দেওয়া হয়নি।
টাস্কফোর্সের কাজ হচ্ছে উদ্বাস্তদের পুনর্বাসন করা এবং অন্তবর্তীকালীন তাদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া। এখন তা না করে যদি টাস্কফোর্স বছরের পর বছর তালিকা তৈরী করে সরকারকে পাঠায়, তাহলে এর তো এই টাস্কফোর্সের দরকার নেই, এটি জনগণের কোন উপকারে আসবে না। আমরা গত ২০বছরে টাস্কফোর্সের উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি দেখেনি। তাই টাস্কফোর্সের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পাল্টানো উচিত। অন্তত যাতে কাজ শুরু করতে পারে সে লক্ষে যেতে পারার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে ভূমি কমিশন ভূমি কমিশনের ব্যাপারে একটু অগ্রগতি হয়েছে। ভূমি কমিশনের শাখা অফিস রাঙামাটি ও বান্দবানে করা হয়েছে। এটির ব্যাপরে একটি বিধি মালার খসড়া আঞ্চলিক পরিষদ সরকারকে পাঠিয়েছে। আমরা শুনেছি এটি আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে এটি এখনো পাশ হয়নি। এটি পাশ হলে ভূমি কমিশনের কাজ শুরু করতে সহায়তা হবে।

চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় আরো বলেন,  আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়া জরুরী। আমরা এখানে অবাক হয়েছি পার্বত্য মন্ত্রণালয় কিংবা নির্বাচন কমিশন কেউ একজন বলেছে যে, বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী নিয়ে একটি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা সংবিধানের পরিপন্থি । আসলে তারা মনে হয় ঘোলা করে ফেলছেন জাতীয় সংসদের জন্য, নির্বাচনের জন্য ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি নির্বিশেষে কোন আলাদা ভোটার তালিকা করা যাবে না, এই কথাটি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকারের বেলায় এইসব কোন কিছু উল্লেখ নেই। এইসব দেখে শুনেইতো সরকার ১৯৯৭সনে পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেছে এবং আইন প্রণয়ন করেছে। সরকার না বুঝে শুনে তোর আর এই চুক্তি করেনি। যদি আইন মন্ত্রণালয় থেকে কোন ব্যাখ্যা আসতো তাহলে কিছু বলতে পারতাম কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় তো এখনো কোন কিছুর ব্যাখ্যা দেয়নি। কাজেই এখানে জেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য আলাদা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা উচিত অতিদ্রুত। জেলা পরিষদের সদস্যরা আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচিত করবেন এটাই নিয়ম এবং আইন।




রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions