সোমবার | ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

সংস্কারবাদী দুই সংগঠনের ৪জনের ইউপিডিএফে যোগদান (ভিডিওসহ)

প্রকাশঃ ২০ জুলাই, ২০১৮ ০৬:২১:৪৯ | আপডেটঃ ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:৪২:৩৮  |  ৩৩৫৭
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটিতে সংস্কারবাদী দুটি আঞ্চলিক দলের ৪জন সশস্ত্র সদস্য  ইউপিডিএফে যোগ দিয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কতুকছড়ির একটি বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তারা যোগদান করার কথা জানায়।
যোগদানকারীরা হলো ইউপিডিএফ সংস্কারের সার্জেন্ট ধর্মজয় ত্রিপুরা, পাভেল চাকমা,  জেএসএস সংস্কারের আর্মস গ্রুপের সদস্য শান্ত চাকমা এবং  জেএসএস সংস্কারের আর্মস গ্রুপের সদস্য সুমেন্টু চাকমা। ৩ মে নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা হত্যাকান্ড ও  ৪ মে ইউপিডিএফ সংস্কারের প্রধান বর্মা নিহত হওয়ার ঘটনায় ইউপিডিএফ নেতারা মামলার আসামী হওয়ায় সাংবাদিক সম্মেলনে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

শুক্রবার সকালে রাঙামাটির কুতুকছড়ির এক পাহাড়ি গ্রামে সরাসরি সাক্ষাৎকারে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়নের নৌকাছড়া হেডম্যানপাড়ার বাসিন্দা শশী চরণ ত্রিপুরার ছেলে ধর্মজয় ত্রিপুরা বলেন, জেএসএস সংস্কার দল ছেড়ে এখন যোগ দিয়েছি ইউপডিএফ’এ। ত্যাগ করা দলটিতে ছিলাম সশস্ত্র গ্রুপের সার্জেন্ট।

তিনি বলেন, জুম্ম জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে ২০০৭ সালে যোগ দিয়েছিলাম জেএসএস সংস্কার দলে। যোগদানের পর তার হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল মারণাস্ত্র। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তিনি বুঝতে পারি, আমার হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে আমাকে যারা সংঘাতের পথে ঠেলে দিয়েছেন তারা শুধু ব্যস্ত ব্যক্তিস্বার্থে। নিরীহ মানুষের থেকে চাাঁদাবাজি করে ভারি করছেন নিজের পকেট। আর কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে ইউপিডিএফকে ধ্বংস করার মন্ত্রে প্রাণঘাতি সংঘাতে। চলছে জুম্ম দিয়ে জুম্ম ধ্বংসের খেলা। তাদের কথা ও আদর্শের কোনো মিল নেই। এসব খুব খারাপ লাগত আমার। অন্ধকার দেখতাম জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাই অনিশ্চিত অন্ধকার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পালিয়ে আসি দল ছেড়ে। কিন্তু দল ছাড়ার কারণে জেএসএস সংস্কারেরা যেখানে পাবে সেখানে আমাকে শেষ করার হুমকি দিচ্ছে। ফলে তৈরি হয় নিরাপত্তাহীনতা। তাই জীবনের নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্রের চেতনায় জাতীয় স্বার্থে ইউপিডিএফে যোগ দিয়েছি।

রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের নানাক্রুম গ্রামের বাসিন্দা জ্যোতির্ময় চাকমার ছেলে শক্তি চাকমা বলেন, আগে ছিলাম ইউপিডিএফের সদস্য। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি অর্থ ও বিপুল সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রলোভনে পড়ে যোগ দিয়েছিলাম জেএসএস সংস্কার দলে। এ ছাড়া বলা হয়েছিল জুম্ম জাতীয় স্বার্থের কথা। কিন্তু পরে বুঝতে পারি তাদের কথা ও আদর্শের কোনো মিল নেই। আমাদেরকে ব্যবহার করা হতো শুধু চাঁদাবাজি, অপহরণ আর প্রাণঘাতি সংঘাতে। এসব বুঝে জেএসএস সংস্কার ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছি। কিন্তু জীবনের নিরাপত্তাসহ জাতীয় স্বার্থে আবার যোগ দিয়েছি ইউপিডিএফ’এ।  
সাক্ষাৎকারের বক্তব্যে একই কথা বলেছেন, নব্যমুখোশবাহিনী ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা রাঙামাটির নানিয়ারচরের সাবেক্ষং ইউনিয়নের বড়পুলপাড়ার বাসিন্দা সুকুমার চাকমার ছেলে সুমেন্টু চাকমা ও একই উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১৭ মাইল চিরঞ্জীব দজরপাড়ার বাসিন্দা মেইক্যে চাকমার ছেলে পাভেল চাকমা। তারা বলেন, নাম আলাদা হলেও জেএসএস সংস্কার এবং নব্যমুখোশবাহিনীর সব কর্মকান্ড এক ও অভিন্ন। এছাড়া বিপথগামী হওয়ার লোহমর্ষক ঘটনাবলির বর্ণনা দেন স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এ চার যুবক।
ইউপিডিএফ জানায়, শুধু এ চারজন নয়- সম্প্রতি জেএসএস সংস্কারবাদী এবং নব্যমুখোশবাহিনীর জাতীয় স্বার্থপরিপন্থী কর্মকান্ডে হতাশ হয়ে তাদের অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। সংগঠনটির জেলা ইউনিট সংগঠক সচল চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এবং নিয়মাতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। জাতীয় ও জনগণের স্বার্থবিরোধী যে কোনো কর্মকান্ড ঘৃণা করে। যারা ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখছি।



যোগদানকারীরা সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ করে বলেন, জেএসএস ও ও ইউপিডিএফের সংস্কারবাদীরা জনগণের স্বার্থে আন্দোলনের কথা বলে যোগদান করিয়ে প্রশাসনের সহায়তায় মুল ইউপিডিএফকে নিশ্চিহৃ করতে বিভিন্ন হত্যাকান্ড পরিচালনা করতে তাদের ব্যবহার করে। সংস্কারবাদী সংগঠনের নেতারা সাধারন পাহাড়ীদের জিম্মি করে চাদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে তাদের পকেট ভারি করলেও জনগনের জন্য কিছু করেনি। এসময় তারা আরো বলেন, জুম্ম দিয়ে জুম্ম ধব্বংস হোক আমরা তা চাই না, কোন আর্দশ ছাড়া রাজনীতি হয় না। এসময় তারা পার্বত্য এলাকায় ভাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করার দাবিও জানান।


রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions