মঙ্গলবার | ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮
রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ

দুই নেতার সদস্য পদ স্থগিত নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের ভিন্ন ভিন্ন মত

প্রকাশঃ ০৮ জুন, ২০১৮ ১০:৩৩:২৫ | আপডেটঃ ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৮:১২:২২  |  ৯৫৪
শাহ আলম, সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাপ্পা এবং সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  জানানো হয়, সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১৭(খ) অনুচ্ছেদ ধারা মোতাবেকে রাঙামাটি কলেজ ছাত্রলীগের দুই নেতার সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়াও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সদস্য পদ স্থগিত থাকবে। যাদের সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে  তারা হলেন, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক তারেক হোসেন মাহিম ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান শাওন।

সদস্য পদ স্থগিত করার ঘটনায় ছাত্রলীগের কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাসহ নানা মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছে কোন নেতা-কর্মীর পদ স্থগিত, অব্যাহতি, বহিস্কারাদেশ ক্ষমা এসব এখতেয়ার ইউনিট কমিটির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের নেই, আবার অনেকই বলছেন আছে।

সদস্য পদ স্থগিত হওয়া ছাত্রলীগ নেতা তারেক হোসেন মাহিম ও মেহেদী হাসান শাওন জানিয়েছেন, আমরা গণমাধ্যমে পড়েছি আমাদের পদ-পদবি নাকি স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো কলেজ ছাত্রলীগের দাপ্তরিক সেল থেকে কোন প্রকার নথি হাতে পাইনি।

সাম্প্রতিক সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কলেজ প্রশাসনিক শাখার কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে অতিরিক্ত ফি নেওয়া কারণে আমরা কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ করেছি। আমরা অধিকার আদায়ের লক্ষে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থাকার কারণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমার সাংগঠনিক কাজে ঈর্ষানিত হয়ে কলেজ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজেদের স্বার্থ হাসিল হাসিল করার লক্ষে অবৈধভাবে আমাদের পদ-পদবি স্থগিত করার চেষ্টা করছে।

তারা আরো বলেন, আমরা যদি কোন অন্যায় করে থাকি তাহলে তদন্তের মাধ্যমে আমাদের সর্ব্বোচ অভিভাবক জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বরাবর সুপারিশের মাধ্যমে যা শাস্তি দিবে তা আমরা মাথা পেতে নিব।

দুই নেতার পদ-পদবি স্থগিত বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান বাপ্পা প্রতিবেদককে বলেছেন, সম্প্রতি দলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ করার অভিযোগে  অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নেটিশ দেওয়া হয়। উপযুক্ত জবাব না দেয়ায় ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১৭(খ) অনুচ্ছের ধারা মোতাবেকে বিশেষ ক্ষমতা বলে সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সাথে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে তাদের পদ-পদবী সাময়িক ভাবে স্থগিত ও সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেই এবং  পরবর্তী নিদের্শ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং এসময়ে তাদের দায়ভার সংগঠন বহন করবে না বলে তিনি জানান।

কলেজের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ ইতিয়াজ রিয়াদ বলেন, অভিযুক্তদের বিষয়ে একাধিকবার জেলা ছাত্রলীগের কাছে আলাপ-আলোচনা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি। বরং বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। তাই আমরা গঠনতন্ত্রের ১৭(খ) অনুচ্ছের ধারা মোতাবেক তাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অভিযুক্তদের বিষয়ে পদ-পদবী সাময়িক ভাবে স্থগিত ও সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হই।

ইউনিট কমিটি পদ-পদবী সাময়িক ভাবে স্থগিত ও সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার ক্ষমতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে  জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  সাল্লাউদ্দিন টিপু তিনি বলেন, সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গঠনতন্ত্রের ১৭(খ) অনুচ্ছের ধারা মোতাবেক ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্ষমতা রাখে কিন্তু জেলা ছাত্রলীগকে অব্যশই অবগত করতে হবে। কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে অবগত করেছে কি না এ বিষয়ে আমি অবগত নই।

দুই নেতার সদস্য পদ স্থগিতের বিষয়ে কথা বলার জন্য জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমাকে বেশ কয়েকবার পর পর ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
 
রাঙামাটি সরকরি কলেজ ছাত্রলীগের দুই নেতার সদসপদ স্থগিত নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন ক্ষোভ প্রকাশ করে সিএইচটি টুডে ডট কম কে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র ও নিয়ম নীতি অনুসারে ছাত্রলীগের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা আওতাধীন যে কোনো ইউনিট কমিটির কোনো নেতৃবৃন্দকে কোনও কারনে তার পদ পদবি থেকে স্থগিত/অব্যাহতি করার ক্ষেত্রে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের লিখিত সুপারিশ নিতে হবে। পরে তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের সুপারিশ আকারে কাছে যাবে। ছাত্রলীগের নেতা কর্মীকে পদ-পদবি থেকে স্থগিত/অব্যাহতি করার ক্ষমতা এক মাত্র কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ রাখে। কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমতি ছাড়া যে কোনো স্থগিত/অব্যাহতি আদেশ সম্পূর্ণরুপে অবৈধ। কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দদের কাছে সুপারিশ কিংবা আলোচনা কোন বিষয়ে আসেনি বলেও জানান তিনি।

সাবেক রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ এমরান রোকন বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেক ইউনিট কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্যপদ স্থগিত করার নিজস্ব ক্ষমতা রাখে। কিন্তু তা সব্বোর্চ ৩ মাস পর্যন্ত। তার আগে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে তার প্রতিবেদন জেলা ছাত্রলীগ বরাবর হস্তান্তর করতে হবে। তারই প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সর্বশেষ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহাজাদা জানান, ইউনিট কমিটির কোন নেতা-কর্মীকে সদস্যপদ স্থগিত, অব্যাহতি, বহিঃকারাদেশ দিতে হলে সুপারিশ আকারে জেলা ছাত্রলীগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। কারণ যেকোন নেতার সদস্যপদ স্থগিত, অব্যাহতি, বহিঃকারাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ রাখে, অন্য কেউ নয়।

অন্যদিকে দুই নেতার সাময়িক সদস্য পদ স্থগিত আদেশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের তর্ক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দিদারুল আলম ফেইসবুকে প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানিয়েছেন, রাঙামাটি সরকারী কলেজে দূর্নীতি রুখতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতারা বলীর পাঠা হয়েছেন। অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুন্ন করতে নয়, সুনাম অর্জন করতে চেয়েছিলো। কান টানলে যেমন মাথা আসে, তেমনি দূর্নীতিবাজ একটারে ধরলে বহু সুনামধারীরা ফেসে যাবার ভয়ও থাকে। তাই এত বিনোদন চলছে। সোজাসাপ্টা আমি ন্যায়ের পক্ষে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক দীপংকর দে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ফেইসবুক আইডিতে পোষ্ট বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নীতি মেনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ফলাফল যদি স্থগিতাদেশ হয়, তাহলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতি আস্থা হারাবে সাধারন শিক্ষার্থীগণ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর গঠনতন্ত্র এর ১৭(খ) ধারা অনুসারে কোন স্থগিতাদেশ করার জন্য উপযুক্ত কারন দর্শাতে হবে। রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক কে অবগত না করে, তাদের অনুমতি বিহীন স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণ অবৈধ।

কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নুরে আলম তার ফেইসবুকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাঙামাটি সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আদেশ অমান্য, সাংগঠনিক ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন ও সংগঠন পরিপন্থী কার্যকলাপসহ সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে অপ্রীতিকর আচরণ করার কারণে তারেক হোসেন মাহিম ও মেহেদী হাসান শাওন এর সাংগঠনিক কার্যক্রম ও পদবী সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কোন অপ্রাসঙ্গিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গ: সম্প্রতি রাঙামাটি সরকারি কলেজে দ্বৈত ভর্তি বাতিল করার সময় সাধারণ শিক্ষর্থীদের কাছ থেকে কলেজর প্রশাসনিক কর্মকর্তা অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে এমন অভিযোগে সদস্যপদ স্থগিত হওয়া দুই ছাত্রলীগ নেতা কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ জানান। বিষয়টি নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক  তাদের ডেকে পাঠান এবং সমস্যাটি সমাধান কারার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা কালে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সাথে অপ্রীতিকর আচরণ সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের করে বলে কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ  করেন।
 
পাহাড়ের রাজনীতি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions