বৃহস্পতিবার | ০৬ অগাস্ট, ২০২০

গাছ, ভবনের পর মাটি বিক্রির অভিযোগ কাউখালী পোয়া পাড়া এসএমসির বিরুদ্ধে

প্রকাশঃ ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৫:২৮:১০ | আপডেটঃ ৩০ জুলাই, ২০২০ ১২:১৩:১৪  |  ৬৭০
বিশেষ প্রতিনিধি,সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। গাছ বিক্রি, পুরণো ভবন বিক্রির পর মাটি বিক্রি অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটি কাউখালী পোয়া পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের চারদিকে কেটে নেওয়া গাছের গোড়াগুলো রয়ে গেছে। তবে আশপাশে কাঠের কোন গুড়ি দেখা যায়নি।

কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে তাদের কাছে গাছ বিক্রির কোন তথ্য নেই। মাটি কেটে ইটভাটার বিক্রি করা হচ্ছে এ তথ্য পাওয়ার পর অভিযানে গেলে মাটি কাটার মেশিন সহ পালিয়ে যায় সংশ্লিষ্টরা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরণো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে বিদ্যালয়ের বেঞ্চগুলো। পুরণো ভবনের পশ্চিম দিকে একটি ভবনে গাদাগাদি করে দুই শিফট করে চালানো হচ্ছে শিক্ষা পাঠদান।

বিদ্যালয় নিকটবর্তী তিনজন বাসিন্দা বলেন, বিদ্যালয়টি ভাঙার কয়েক মাস আগে বিদ্যালয়ের আশপাশে থাকা সেগুন,গামার, মেহগনী গাছগুলো বিক্রি করা হয়।  গাছগুলো বিদ্যালয়কে ছায়া দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু গাছগুলো সবগুলো একসাথে কেটে ফেলা হয়। যেগুলোর স্থানীয় বাজার মুল্যে ছিল সর্বনি¤œ প্রায় তিন লাখ টাকা।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ  না করার শর্তে বলেন এ গাছ বিক্রির টাকা ভাগাভাগি করেন কমিটির কয়েক সদস্য।

বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের চারদিকে গাছ ছিল। এগুলো কয়েক মাস আগে কেটে নেওয়া হয়। দিনে দুপুরে যেহেতু এ গাছ কেটে নেওয়া হয় এটি স্থানীয় সবাই দেখেছে।

অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাছ বিক্রি এমনকি বিদ্যালয়ের গাছে অস্থিত্বের বিষয়ে  কোন তথ্যই নেই উপজেলা প্রশাসনের কাছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শতরূপা তালুকদার বলেন, বিদ্যালয়টি ভাঙার আগে সরকারী নিলাম হয়েছে। তবে গাছ বিক্রি বা গাছে অস্থিত্বের বিষয়ে আমার কাছে তথ্য ছিল না।


বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এক জন বলেন, বিদ্যালয়ের গাছগুলো  বিক্রির করার আগে সব ঠিকঠাক রেখে নামমাত্র নিলামে বিক্রি করা হয় পরিত্যাক্ত ভবনটি। এ কাজ পায় কমিটির মনোনীত ব্যাক্তি।

নিলামের আগে বিদ্যালয়ের যে সম্পদের একটা তালিকা তৈরি করার কথা সেটা সঠিকভাবে করা হয়নি। কমিটির কতিপয় লোকজন  বিদ্যালয় ভবনের পাহাড়টি গলিয়ে এ মাটি ৫ লাখ টাকা দিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করতে  চুক্তিও করে। সে হিসেবে মাটি কাটাও শুরু করেছিল। কিন্তু এর আশপাশে স্থাপনাগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে তাই এ কাজ বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। এ অবস্থায় কাজ বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শতরূপা তালুকদার বলেন, যেভাবে মাটি কাটা শুরু হয়েছিল সেভাবে কাটা হলে আশপাশে স্থাপনাগুলো হুমকিতে পড়বে এ আশংকায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উচিচিং মারমার সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর পরও কোন সাড়া দেননি।



এসব ব্যাপারে কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হয়। এসময় তিনি ক্ষমতাসীন দলের একাধিক পদে আছেন বলে নিজেকে পরিচয় দিয়ে বলেন গাছগুলো সরকার লাগায়নি তাই  এগুলো কাটার সরকারের অধিকার নেই। তাই যারা বিক্রি করার অধিকার রাখে তারা বিক্রি হয়েছে। তবে এ নিয়ে রিপোর্ট না করলে বিদ্যালয়ের জন্য ভাল হয়। বিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েরা কষ্ট পাচ্ছে এটি দেখতে হবে।

বিদ্যালয়ের স্বার্থে রিপোর্ট না করলে ভাল হবে। তিনি বলেন, গর্ভবর্তী মেয়ের স্বার্থে পাহাড় গলিয়ে বিদ্যালয় নির্মাণ করা দরকার। কারণ গর্ভবতী মহিলারা তাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। তাদের কথা চিন্তা করে পাহাড়টি কেটে সমান করে বিদ্যালয় ভবন তৈরি করা হবে। এতে পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে পাঠিয়েছেন দাবী করে সভাপতি কনিষ্ঠ বড়–য়া প্রতিবেদকের সাথে দেখা করতে রাঙামাটিতে আসেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন না করতে প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।

কনিষ্ঠ বলেন, প্রধান শিক্ষক তার এক আত্মীয়ের বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত আছেন। প্রধান শিক্ষক জেলা পরিষদের সদস্য অংসুই প্রু চৌধুরীর ঘনিষ্ট আত্মীয় বলেও জানান কনিষ্ঠ বড়–য়া।

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions