শনিবার | ১৮ অগাস্ট, ২০১৮

আসল মুক্তিযোদ্ধা কারা পাহাড়ের মানুষ জানে : ঊষাতন তালুকদার এমপি (ভিডিওসহ)

প্রকাশঃ ২০ মে, ২০১৮ ০৮:০১:০৭ | আপডেটঃ ১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০৯:৫০:৫৯  |  ২৬৫০
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। জনসংহতি সমিতির সহ সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার এমপি বলেছেন, আওয়ামীলীগ রাস্তা বন্ধ করে নাগরিক সমাজের ব্যানারে সমাবেশ করে। দীপংকর তালুকদার আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। তারপরেও তার নাগরিক সমাজের ব্যানারে সমাবেশ করতে হয়। সেটি নাগরিক সমাজের ব্যানারে না করে দলীয় ব্যনারে করলে পারত কারন সেখানে নাগরিকরা ছিল না, ছিল দলীয় নেতা কর্মী।

নাম না ধরে  উষাতন তালুকদার আরো বলেন, আপনি কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হলেন? আমাদের দুটি চোখ আর মানুষের লক্ষ লক্ষ চোখকে তো ফাঁকি দেওয়া যাবে না। ১৯৭৫সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কাদের সিদ্দীকির সাথে গিয়েছিলেন সেটা ঠিক আছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি কোথায় ছিলেন? লোকে জানে কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে মুক্তিযোদ্ধা না। যারা মুক্তিযোদ্ধা না, তারা বেশি বেশি মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে। আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য, যারা সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা তারা তালিকায় নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে প্রাঙ্গণে আয়োজিত ছাত্র জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার  উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়ে উষাতন তালুকদার  বলেন, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে। এটা আমাদের সকলের বুঝতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে আবার কেন রক্তের হলি শুরু হলো? কেন এখানে আবার যৌথ বাহিনীর অভিযান দিতে হচ্ছে। অভিযান হোক কিন্তু অভিযানের নামে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাহাড়ের মানুষ স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও কেন  আতঙ্কে থাকবে।

গত ৩-৪ মে তারিখে পার্বত্য অঞ্চলের নানিয়ারচরে শক্তিমান চাকমার হত্যাকান্ড হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এইসব হত্যাকান্ডের পক্ষে আমরা নই। শক্তিমান চাকমার হত্যার পরের দিন আরো ৫জন অত্যন্ত মর্মান্তিভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এইসব হত্যাকান্ডের নিন্দা জানাচ্ছি।


পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে উষাতন তালুকদার এমপি বলেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি আমরা চাই না। সরকারের যথাযথ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। সরকার সন্ত্রাসীদের, অস্ত্রবাজদের, চাঁদাবাজদের ধরবেন ঠিক আছে। আমরা বার বার বলে আসছি অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান হোক। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হোক, এইসবের  বিরুদ্ধে আমরা নই। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে যৌথ অভিযান হবে নাকি অন্য কোন অভিযান হবে তা জন প্রতিনিধিদের অজান্তে করা হয়। আমি জানি না এখানে যৌথ অভিযান হচ্ছে কিন্তু আমি একজন জনপ্রতিনিধি । এটি অত্যন্ত আমার জন্য দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। আমি জনপ্রতিনিধ, মানুষের ভাল মন্দ, দেখার, জানান অধিকার আমার আছে। শুধু আমি নয় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদকেও অবহিত করা হয়নি। 

এমপি হয়ে এক টুকরো ইট ফেলতে পারেনি সরকারি দলের নেতাদের এমন বক্তব্যর জবাবে উষাতন তালুকদার এমপি বলেন, আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কেউ কেউ বলে আমি জনগণের জন্য কিছু করতে পারি নাই। আমি একটি ইটও, কোথাও ফেলতে পারি নাই। আমি যদি বলি, জুড়াছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কতবার বার আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাসিমের কাছে যোগাযোগ করেছি, মিটিং করেছি রেজ্যুলেশন পাঠিয়েছি। তারই প্রেক্ষিতে কাপ্তাই, বিলাইছড়ি ও জুড়াছতি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ বেডে উন্নীত হয়েছে কাজও শুরু হয়েছে। আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্মান কাজের উদ্বোধন করার কথা থাকলেও  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তাড়াহুড়ো করে জনপ্রতিনিধি নয় এমন লোককে দিয়ে  হাসপাতালের উদ্বোধন করলেন।  ফলক উম্মোচনের ব্যাপারে সরকারের বিধিমালা রয়েছে। কারা ফলক উম্মোচন করতে পারবেন, কারা পারবেন না।

আমাদের দাদা (দীপংকর তালুকদার) তিনি প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী তিনি তো ভালো বুঝার কথা। কিন্তু ওনার খায়েস মিটে না। তিনি বিভিন্ন জায়গায় ফলক উদ্বোধন কিংবা উম্মোচন সবই করেন। আমরা নিজেদের প্রচার করতে চাই না। ফলক উম্মোচন করতে চাই না। এসব বলছি কারণ- আইনের বিরুদ্ধে, নিয়মের বিরুদ্ধে, বিধিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে ওনারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, গায়ের জোরে ফলক উম্মোচন করছেন।  অনেকে এখন বলবেন আমরা এসব হিংসা করে বলছি। কিন্তু না, বলছি ওনারা পার্বত্য অঞ্চলের সবাইকে বোকা ভাবেন এটাই আমাদের দুঃখ। নামফলক উম্মোচন করে তারা যেন বাহাদুর বনে গেলেন। তারা আগাও খাবে গোড়াও খাবে।


ঊষাতন তালুকদার স্থানীয় শীর্ষ আওয়ামীলীগ নেতাদের দুর্নীতির সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতায় থেকে আপনারা দুর্নীতি করছেন। অবৈধভাবে সব কিছু ভোগ করছেন। তা না হলে আওয়ামীলীগ নেতাদের এত বিল্ডিং ইমারত কিভাবে নির্মিত হয়? আপনাদের কারো বাবা কি জমিদার ছিলেন? আরো অন্যান্য কি ব্যবসা আছে নেতাদের তারাই ভালো জানেন। নিজেরাই দুর্নীতি করেন, চাদাবাজি করেন আবার তা অন্যদের গাড়ে চাপিয়ে দিতে চান। এসব ষড়যন্ত্র আর ষড়যন্ত্র! এইগুলো আমরা সব বুঝি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি জুয়েল চাকমার সভাপতিতে ছাত্র জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৯৯নং আসনের সংসদ্য সদস্য ঊষাতন তালুকদার। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মহিউদ্দীন মাহিম, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক নজরুল কবির, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পাদীপ্ত বসু, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি মনিরা ত্রিপুরা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
 
পাহাড়ের রাজনীতি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions