মঙ্গলবার | ২৬ মে, ২০২০
রাঙামাটি রাজবন বিহারে

চীবর উৎসর্গ করার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ২দিনব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব

প্রকাশঃ ০৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:১১:৫৭ | আপডেটঃ ২৫ মে, ২০২০ ০৬:২৫:৫২  |  ৬৬৫
ষ্টাফ রিপোর্টার, রাঙামাটি।  চীবর উৎসর্গ করার মধ্যে দিয়ে রাঙামাটি রাজবন বিহারে শেষ হলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উৎসব।  বৃহস্পতিবার বিকালে বেইন ঘরে সুতা কাটার মাধ্যমে চীবর বানানোর কাজ শুরু হয়।  শুক্রবার বিকালে চীবর প্রদানের মাধ্যমে এর উৎসবে পরিসমাপ্তি ঘটে। কঠিন চীবর দান উৎসবে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা যোগ দেয়।

চীবর উৎসর্গ করার মধ্যে দিয়ে রাঙামাটি রাজবন বিহারে শেষ হলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উৎসব।  বৃহস্পতিবার বিকালে বেইন ঘরে সুতা কাটার মাধ্যমে চীবর বানানোর কাজ শুরু হয়।  বিকাল ৩টায় চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বেইন ঘরে সুতা কাটার মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবব্দশায় মহাপূর্নবতী বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে সূতা কাটা শুরু করে কাপড় বয়ন, সেলাই ও রং করাসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয়ে থাকে বলে একে কঠিন চীবর দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ পদ্ধতিতে দান করলে কায়িক-বাচনিক এবং মানসিক পরিশ্রম অধিকতর ফলদায়ক হয় বলে বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাই বিশাখা প্রবর্তিত এ ঐতিহাসিক নিয়ম অনুসারে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদিবাসী নারীরা চরকায় তূলা থেকে সূতা বের করে বেইনের (কোমড় তাঁত) মাধ্যমে সেই সূতা দিয়ে কাপড় বুনন ও রং করে চীবর প্রস্তুত করে তা দান করা  হয়। এজন্য এ দানকে কঠিন চীবর দান হিসেবে অভিহিত করা হয়।

অপরদিকে তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ দেশ বিদেশ থেকে ধর্মপ্রাণ লোকজনের সমাগম ঘটেছে। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে বন বিহারের আশেপাশে রকমারী জিনিসপত্রের দোকান, খাবার দোকান ও নাগর দোলা বসানো হয়েছে। দৃশ্যত রাঙামাটি শহর এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

২৪ ঘন্টার মধ্যে চীবর তৈরি করে আজ বিকালে চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় চীবর বনভান্তের প্রতিকৃতিতে অর্পন করেন। এর পর একে একে সবাই চীবর দান করেন। কঠিন চীবর দান উৎসবে ধর্মীয় দেশনা দেন বনভান্তের প্রধান শিষ্য  প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। উৎসবে বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ যোগ দেন।  

ধর্মসভায় বক্তব্য রাখেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, বন বিহারের উপাসক উপাসিকা পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি গৌতম দেওয়ান। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা,  রাঙামাটি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মাইনুর রহমান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনর রশীদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন।

ভিক্ষুসংঘের ধর্মদেশনা শেষে লাখো মানুষের সাধুবাদে শেষ হয় রাজ বন বিহারের ৪৬ তম কঠিন চীবর দান।



তথাগত গৌতম বুদ্ধের সময় বিশাখা নামে এক পূণ্যবতী বুদ্ধকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তৈরি চীবর দান করেন। এ রীতি অনুসরণ করে ১৯৭৪ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। বুদ্ধ ভিক্ষুদের ৩ মাস বর্ষাব্রত শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার দিন থেকে এ কঠিন চীবর দানুষ্ঠান শুরু হয়। মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান করা যায়। বছরে একটি বিহারে একবারই করা এ দান। সে দান করতে হয় প্রবারণা পুর্ণিমা (আশ্বিনী পুর্ণিমা)- কার্তিক পূর্ণিমা দিন পর্যন্ত।



রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions