মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর, ২০১৯

৬ মাস ধরে জেলে থেকেও চাকুরীতে বহাল তবিয়তে লামায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী !

প্রকাশঃ ০২ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৩৮:৩৬ | আপডেটঃ ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:৪৫:৩১  |  ২১৯
সিএইচটি টুডে ডট কম,  বান্দরবান। লামা উপজেলার রুপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ দপ্তরী কাম প্রহরী মো. তাজুল ইসলাম পলাশ (৩৪) বড় ধরনের হেরোইনের চালান সহ ডিএমপি পুলিশের রূপনগর থানায় আটক হয়ে গত ৬ মাস ধরে জেল হাজতে রয়েছে। এদিকে মাদকদ্রব্য সহ আটক হয়ে ৬ মাস ধরে জেল হাজতে থাকার পরেও তার কর্মস্থল রুপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে বহাল তবিয়তে। সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্গন করে স্কুলের কর্তৃপক্ষ ও লামা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অভিযুক্তের বিষয়ে এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সে লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের রুপসী বাজার পাড়ার মুক্তিযোদ্ধা মৃত গোলাম রব্বানীর ছেলে।

জানা যায়, ডিএমপি পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শেখ মোহাম্মদ শামীম ও রূপনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মো. শাহ্ আলম এর নেতৃত্বে গত ৩ এপ্রিল ২০১৯ইং বুধবার রাজধানী ঢাকার রূপনগর থানাধীন শিয়ালবাড়ি মোড়স্থ বড় ধরনের হেরোইন চালান সহ পুলিশ ৩জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ১৬২০ পুরিয়া হেরোইন (যার মূল্য ৩ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা) পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে রূপনগর থানার এএসআই মো. হাসানুর রহমান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ৮(গ) ধারায় মামলা রুজু করে। মামলা নং- ০৪/৭১, তারিখ- ৩ এপ্রিল ২০১৯ইং। মামলায় লামার রুপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী মো. তাজুল ইসলাম পলাশ ১নং আসামী করা হয়। এছাড়া কুষ্টিয়ার মো. রতন শেখ ও বরিশালের মো. বিল্লাল নামে আরো ২জনকে আসামী করা হয়েছে।

রুপসীপাড়া স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সাখাওয়াতুল ইসলাম বলেন, দপ্তরী মো. তাজুল ইসলাম পলাশের কর্মস্থলে অনুপস্থিত, নানা অপকর্ম ও চাকুরী হতে অব্যাহতি দিতে গত ১২ মার্চ ২০১৯ইং উপজেলা শিক্ষা অফিসকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারী ২০১৯ইং হতে সে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। আমাদের জানা মতে সে মাদক মামলায় গত ৬ মাস ধরে জেল হাজতে রয়েছে।   

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মুবিন বলেন, স্কুলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তাকে তিনবার কৈফিয়ত তলব সহ ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। সে নোটিশের কোন উত্তর দেয়নি। পলাশ দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনায় আমাদের কষ্ট হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে স্কুলের কয়েকজন অভিভাবক বলেন, সে লামা উপজেলা তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় কাউকে মান্য করত না। স্কুলের কোন দায়িত্ব সে নিয়মিত পালন করত না। সে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় স্কুলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজসহ তার সকল কাজ আমাদের কোমলমতি শিশুদের করতে হয়।    

এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ গত ২৯ মে ২০১৯ইং রুপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী মো. তাজুল ইসলাম পলাশকে অনুপস্থিতির জন্য পুনঃ ব্যাখ্যা দাখিল প্রসঙ্গে নোটিশ দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই আমরা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।   

বান্দরবান |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions