বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

খাগড়াছড়িতে ৭ হত্যাকান্ডের একবছরেও শেষ হয়নি তদন্ত কার্যক্রম, এখনও অজ্ঞাত আসামীরা

প্রকাশঃ ১৭ অগাস্ট, ২০১৯ ০৪:২৭:১৮ | আপডেটঃ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:১০:৫২  |  ৪৬১
সিএইচটি টুডে ডট কম, খাগড়াছড়ি। ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট খাগড়াছড়ি সদরের স্বণির্ভর বাজারে সংগঠিত সেভেন ম্যাডারের একবছরেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। জীবনের ঝুঁকি ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এমন নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় পরিবার ও সংগঠনের কেউ মামলার বাদীর হয়নি। অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামী করে পুলিশের করা হত্যা মামলার তদন্ত করছে চট্টগ্রাম বিভাগের পিবিআই। তবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ থাকলেও তা থেকে অপরাধীদের একবছরেও শনাক্ত করা না যাওয়ায় পরিবার ও সুশীল সমাজে ক্ষোভ রয়েছে।
 
পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারের জেরে একের পর এক হত্যাকা-ের ঘটনা নতুন নয়। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া, আঞ্চলিক দলগুলোর বিভাজন ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে দিনদিন বাড়ছে সহিংসতা। গেল বছরের ১৮ আগস্ট খাগড়াছড়ি শহরের অদূরেই স্বণির্ভর এলাকায় দিনে-দুপুরে সন্ত্রাসীরা গুলি করে ৭ জনকে হত্যা করে। সন্ত্রাসীদের টার্গেট রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা হলেও এই ঘটনায় ঝরে যায় দুইজন সাধারণ লোকের প্রাণ। জীবনের ঝুঁকি থাকায় কেউ মামলা না করলেও পুলিশ অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করে। তবে দীর্ঘ একবছরেও শেষ হয়নি মামলার তদন্ত কার্যক্রম। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি দাবি করে সমস্যা সমাধানে সরকার ও জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান সুশীল সমাজের।

স্বণির্ভর ঘটনায় নিহত স্বাস্থ্য কর্মী জিতায়ন চাকমার স্ত্রী প্রভাতী চাকমা বলেন, আমার স্বামী নিরহ একজন সরকারি চাকরীজীবী ছিল। তার আয়ে সংসার চলত। সন্ত্রাসীদের গুলিতে সে নিহত হওয়ার একবছর হয়ে গেল। স্বামী হত্যার বিচার হবে না সেটা মনকে একপ্রকার বুঝিয়ে নিয়েছি। তিন মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্ট করে সংসার চলছে। জিতায়নের মৃত্যুর পর পেনশনের যে টাকা পেয়েছিলাম তা দিয়ে তার ঋণ পরিশোধ করে শেষ। এখন যদি সরকার আমার মেয়েদের যোগ্যতা অনুসারে চাকরীর ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে একটু নিশ্চিন্তে বাঁচতে পারবো।

মানবাধিকার কর্মী নমিতা চাকমা বলেন, পাহাড়ে একের পর এক হত্যাকা- চললেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকায় নিহতের পরিবার সুবিচার পাচ্ছে না। এতে করে সন্ত্রাসীরা আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খাগড়াছড়ি শাখার সদস্য নির্মল দাশ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে এখন যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই তার পেছনে অর্থ ও ক্ষমতা জড়িত। পাহাড়ে বৃদ্ধমান সমস্যাকে রাজনৈতিক সমস্যা বিবেচনা করে তা সমাধানে রাষ্ট্র ও দায়িত্বশীল জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর এগিয়ে আসার দরকার।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা বাদি না হওয়ায় পুলিশের উপ পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দে বাদি হয়ে অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ থেকে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে মামলাটি চট্টগ্রাম পিবিআই এ প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, স্বণির্ভর হত্যাকা-ের ঘটনা প্রশাসনের গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই হত্যাকা- বলে জানানো হয়েছে।  ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূর্গম এলাকায় সড়ক নির্মাণসহ ৫ টি সুপারিশ করা হয়। যার অধিকাংশ বাস্তবায়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন ও কিছু চলমান। সিসিটিভি ফুটেজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট সকালে খাগড়াছড়ি সদরের স্বণির্ভর বাজারে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের এক বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতিকালে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুঁড়ে ৬ জনকে ঘটনাস্থলে ও একজন দূরে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি শাখার তৎকালীন সভাপতি তপন চাকমাসহ সংগঠনের ৪ নেতাকর্মী নিহত হয়। নিহত বাকী ৩ জন ছিল সাধারণ মানুষ।
 
খাগড়াছড়ি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions