শুক্রবার | ২৩ অগাস্ট, ২০১৯

ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহবান

প্রকাশঃ ০৫ অগাস্ট, ২০১৯ ১১:৩৭:৩২ | আপডেটঃ ২৩ অগাস্ট, ২০১৯ ০৮:৫৭:১৭  |  ২০৫
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম ততটা ফলপ্রসূ হয় না এটা বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত। এটা যেকোন রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেশের নাগরিকদের নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম সুনিশ্চিত করা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভেতরে একটি অশান্ত পরিবশে বিরাজ করছে। তাদের মধ্যে একটি ভীতির সঞ্চার হয়েছে তারা যেন সংবিধান অনুযায়ী সমঅধিকার সম্পন্ন নাগরিক নন। এর দু’টো কারণ এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। এক.পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এ চুক্তি বাস্তবায়ন ব্যতিরেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বাভাবিক অবস্থা আশা করা যায় না। দুই. পার্বত্য চুিক্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় কারণ সেখানে নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অখন্ডতার নিরাপত্তার প্রশ্ন সেখানে জড়িত বলে কেউ কেউ মনে করেন। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে কাকে রাষ্ট্র দেশপ্রেমিক বলবেন আর কাকে দেশদ্রোহী বলবেন তিনি তার ব্যাখ্যা চান। তিন প্রশ্ন রাখেন আজ যে পাহাড়ীরা  এ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে সমবেত হয়ে আবেগ দিয়ে জাতীয় সঙ্গীত- ‘আমারসোনার বাংলা, আমি তোমার ভালবাসি...’ -গেয়ে অনুষ্ঠান শুরু করল সে কি দেশদ্রোহী; নাকি যিনি শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে জনগণকে পথে নামিয়েছে সে দেশদ্রোহী? এ রাষ্ট্র কার পক্ষ অবলম্বন করবেন-এ প্রশ্নটি তিনি ছুঁড়েন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন শুধু পাহাড়ীদের  মাতৃভাষায় শিক্ষা প্রদানের জন্য শুধু গুটিকয়েক আদিবাসী ভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না, মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি রাষ্ট্রের মর্যাদা থাকতে হবে।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন বাংলাদেশে এখনও গণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পায়নি। সমতলে আদিবাসীদের জাতীয় জীবনে বিরাজ করছে অস্থিরতা এবং পাহাড়ে আদিবাসীদের জাতীয় জীবনে চলছে অশান্তি। একদিন এই অশান্তি ও অস্থিরতার কারণ ঠিকই খোঁজে পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং তার স্বাগত বক্তেব্যে বলেন, ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। এবার সারা বিশ্বে এ দিবসের রজতজয়ন্তী পালন হচ্ছে। বাংলাদেশে এবার ঈদুল আযহা ছুটির সময়টা বিবেচনা করে একটু এগিয়ে ৫ তারিখেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদিবাসী দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। কিন্তু দেশব্যাপী ৯ তারিখেও এ দিবসের উদযাপন চলবে।
মূল সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যন্যাপ-এর সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের ওযার্কার্স পার্টিও সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সিপিবি-এর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ডালেম চন্দ্র বর্মন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদেও সাধারণ সম্পাদক এড. রাণাদাশ গুপ্ত প্রমুখ।

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions