সোমবার | ২৬ অগাস্ট, ২০১৯

একজন ব্যাতিক্রমী জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ

প্রকাশঃ ১৭ জুলাই, ২০১৯ ১১:৩৩:৫৭ | আপডেটঃ ২৫ অগাস্ট, ২০১৯ ১১:০৩:৪৩  |  ৭৬৬
হিমেল চাকমা, রাঙামাটি। ৮ জুলাই সকালেই বৃষ্টি শুরু হয় রাঙামাটিতে। এটি বাড়তে থাকে। পাহাড়ি ঢলে পানি ধস নামাচ্ছে পাহাড়ে। পাহাড়ি ছড়ার পানির তীব্র  স্রোত ভাঙছে ছড়ার পাড়। এতে ঘাগড়া কলাবাগানে সবার চোখের সামনে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের অংশ । একের পর এক ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছিল সড়ক বিভাগের শ্রমিকরা। কাজ হচ্ছিল না।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ মিডিয়ার খবরে ১১ জুলাই সকাল সকাল ছুটে গেলেন ঘটনাস্থলে। আবিস্কার করলেন সড়ক রক্ষার পথ। অফিসে ফিরে পোষাক পরিবর্তন করে ট্রাক ভর্তি সরঞ্জাম আর শ্রমিক নিয়ে আবার হাজির হলেন কলাবাগানে। নির্দেশ দিলেন ছড়ার গতিপথ পরিবর্তনে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেও ছড়ায় নেমে পড়লেন শ্রমিকদের সাথে। তাকে দেখে স্থানীয় অন্যরাও নেমে পড়লেন ছড়ার গতি পরিবর্তনের কাজে।

প্রকৃতি যেন ডিসির  প্রচেষ্টার কাছে হার মানতে বাধ্য হল। এ যেন অসম্ভবকে সম্ভব করা। বাঁধা পেয়ে ছড়ার পানি নিজে নিজে তার পথ আবিস্কার করল।

এরপর আনা হল দুটি চেইন স্কেভেটর। অনবরত পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি পাথরগুলো সরাচ্ছে এ মেশিন দুটি। ফলে নিশ্চিত ধসের কবল থেকে রক্ষা পেল সড়কটি। কাজ করার সুযোগ পেল সড়ক বিভাগ।

এটি রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একে এম মামুনুর রশিদের করা প্রতিদিনের ভাল কাজের মধ্যে একটি উদাহরণ মাত্র।
২০১৮ সালের ৬ মার্চ জেলা প্রশাসক হয়ে রাঙামাটি আসেন মামুনুর রশিদ । এসেই মিশে যান সাধারণ জনগণের সাথে। শুনেন দু:খ দুর্দশার কথা। করেন সমাধানের চেষ্টা। নিরহংকার এ ব্যাক্তি খুব সহজে মিশতে পারেন মানুষের সাথে। কখনো বা মনেই হয় না তিনি জেলা প্রশাসক।

টানা বৃষ্টিতে গত ৮ জুলাই যখন কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে দুজন মানুষ মারা গেল তখন সাথে সাথে অফিসের সকল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে নেমে পড়েন ঝুকিপুর্ণ বসতির লোকজনদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে।  কোন মিডিয়া কাভারেজ পেতে নয়, মানুষের জীবন রক্ষায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে যান ঝুকিপুর্ণ বসতিগুলোতে। ত্ওা একেবারে পাহাড়ের পাদদেশের বাড়ি ঘরে।

হাতে মাইক নিয়ে ঘোষনা দিতে থাকেন, “পাহাড়ের নিচে ঘরে যারা আছেন তারা বের হন, বের হন, না হলে ঘর ভেঙ্গে দেওয়া হবে”।

তিনি শুধু এ ঘোষনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। নিজে গিয়ে ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আনেন লোকজন। সবাই ঘর থেকে বের হয়েছে নিশ্চিত হয়ে এসব বাড়িঘরে সাথে সাথে তালা লাগিয়ে দেন।
সবাই ঝুকিপুর্ণ বাড়ি ছেড়েছে এটি নিশ্চিত হওয়ার পর অফিসে ফিরেন। এরপর হাত দেন দুর্গতদের খাবার ও ত্রান বিতরণের কাজে।
১০ দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস হয়েছে। তাঁর  কঠোর পদক্ষেপে প্রাকৃতিক দুর্যোগ  এ বছর তেমন বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারেনি।

প্রতি বুধবার গণ শুনানী করেন মামুনুর রশিদ। শত মানুষের দু:খ কষ্ট অভিযোগের কথা শুনেন। সাথে সমাধান করেন। সমাধানের পথ আবিস্কার করেন। শুনানীতে অন্যান্যদের সাথে শিক্ষার্থীদের বই কিনে দেওয়া, গরীব শিক্ষার্থীদের ভর্তির ফিস দেওয়া, ঔষধ কিনে দেওয়া এগুলো থাকেই।
এ শুনানী দেখে অনেকে ক্লান্ত অনুভব করেন। ভাবেন এটি নিয়মিত করা কিভাবে সম্ভব? এজন্য বাহবা দেন জেলা প্রশাসককে।




কাপ্তাই হ্রদের অবৈধ দখল উদ্ধার। মাঝে মাঝে বিদ্যালয় পরিদর্শন। ক্লাশ নেওয়ার মত ভাল কাজগুলো মানুষের কাছে বেশ সাড়া ফেলে।

মামুনুর রশিদ বলেন, যতদিন আছি ভাল কাজ করে যাব। এটি আমার দায়িত্ব। সরকারের নির্দেশনাও আছে জনকল্যাণে কাজ করা। তবে এটিও  ঠিক, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল উপরে চিঠি লিখে। আমি তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। জনকল্যাণের জন্য যা যা করার  প্রয়োজন আমি তা করে যাব। আমি যেখানে যাই সেখানে ভাল কাজগুলো করে যাব।

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions