শনিবার | ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

রাঙামাটিতে চাঁদাবাজির মামলায় আ’লীগ নেতাসহ ৩ জন কারাগারে

প্রকাশঃ ০৯ জুলাই, ২০১৯ ০৬:০৬:২৬ | আপডেটঃ ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৪৩:১০  |  ১১৭৮
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটিতে চাঁদাবাজি মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বানু (৬০) ও তার ছেলেসহ তিন জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালাত। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তাদের বিরুদ্ধে করা সিআর মামলায় (নম্বর ১৩৩/১৯) জামিন চেয়ে আত্মসমর্পণ করতে গেলে তাদেরকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন, নালিশি আদালতের জৈষ্ঠ বিচারক মো. বেলাল হোসেন। অপর দুই জন হলেন- আনোয়ার হোসেন বানুর ছেলে মো. রুবেল হোসেন (৩৫) হাসি মিয়ার ছেলে মো. মোরশেদ আলম (৩৪)। তাদের সবার ঠিকানা শহরের রিজার্ভ বাজার মসজিদ কলোনি। সাবেক পৌর কমিশনার আনোয়ার হোসেন বানু বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ও রিজার্ভ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি। ওইই মামলায় আরও দুই আসামি পলাতক। পুলিশ ও আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, একই এলাকার বাসিন্দা অটোরিকশা চালক মো. মঞ্জুর আলম বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন বানুসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ৩৮৫ ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাঙামাটির আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলায় জামিন চেয়ে আত্মসমর্পণ করতে আদালতে হাজির হন, ওই তিন আসামি। এতে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় জামিন নামঞ্জুর করে তিন জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। খোরশেদ আলম (৩৬) ও রোমান (২৮) নামে আরও দুই আসামি পলাতক।

মামলার বাদী মো. মঞ্জুর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার কাছ থেকে আনোয়ার হোসেন বানুসহ তার কয়েক সহযোগী দলীয় প্রভাব দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বানু কমিশনারের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।

রাঙামাটি কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, বাদী বিবাদী উভয়ে শহরের রিজার্ভ বাজারের স্থায়ী বাসিন্দা। মূলত তাদের মধ্যে জায়গা-জমির বিষয়ে ঝামেলা বাঁধে। ওইসব বিষয়কে কেন্দ্র করে অটোরিকশা চালক মো. মঞ্জুর আলম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় কোতয়ালি থানাকে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করেন আদালত। জামিন চেয়ে আত্মসমর্পণ করতে গেলে জামিন নামঞ্জুর করে তিনজনকে জেলাহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আরও দুই আসামি পলাতক।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনোয়ার মিয়া বানু বিগত ২০১০ সালে পৌর সভার ওয়ার্ড মেম্বার পদে নির্বাচনে হেরে গিয়ে শহরের রিজার্ভ বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি রাস্তায় ফেলে ভাংচুর করে অশোভন ও অসম্মানজনক আচরণ করে। এই বিষয়টি সেসময়ে জনৈক কামাল উদ্দিন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবরে আবেদন করে অভিযোগ জানিয়েছিলো। সে সময় বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছিলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন আনোয়ার মিয়া বানুকে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দিলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেখান থেকেও পার পেয়ে গিয়েছিলো সে।

এছাড়া সাবেক কমিশনার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও তার মালিকানাধীন হোটেল হিলসিটিতে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর দায়ে এলাকার লোকজন হামলা করে। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও এলাকার লোকজন ভয়ে কথা বলত না।   

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions