মঙ্গলবার | ১৬ অক্টোবর, ২০১৮

আধিপত্যে বিস্তারের লড়াইয়ে ৬মাসে অন্তত ৩৫জন নিহত, সংঘাত বন্ধের দাবি

প্রকাশঃ ০৪ মে, ২০১৮ ০১:৩০:৪১ | আপডেটঃ ১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০৫:১৬:১২  |  ২৩৭৭
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২১ বছরেও পাহাড়ে শান্তি আসেনি। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় আধিপত্যে বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারো অপহরন, চাদাবাজি ও ভ্রাত্বঘাতি সংঘাত চলছে। এই সংঘাতে প্রতিনিয়ত হত্যাকান্ডের স্বীকার হচ্ছে পাহাড়ী জনগন। পাহাড়ের সাধারন মানুষ সংঘাতের অবসান চাইলেও আঞ্চলিক দলগুলো একে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বলতে রাজি নয়। শান্তি চুক্তির পর ২০১৫ সনে জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফের মধ্যে অলিখিত সমঝোতা হলে সংঘাত বন্ধ থাকে। কিন্তু ২০১৭ সনে নভেম্বরের ১৫ তারিখ ইউপিডিএফ ভেঙ্গে গনতান্ত্রিক ইউপিডিফের জন্ম হয়। নবগঠিত ইউপিডিএফের হাতে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ৪ মে পর্যন্ত আক্রমন পাল্টা আক্রমনে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫জন নিহত হয়েছে।

দীর্ঘ দু’শকেরও অধিক সময় ধরে চলা সশ্রস্ত্র সংঘাত নিরসনে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সবার প্রত্যাশা ছিল পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত হবে বহু কাঙ্খিত শান্তি। কিন্তু পার্বত্য পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের সময় পাহাড়ীদের একটি অংশ এর বিরোধীতা করে ইউনাইটেড পিপলস অব ডেমোক্রটিকস ফ্রন্ট ইউপিডিএফ নামে আরেকটি সংগঠন জন্ম নেয়। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় সন্তু লারমার একক নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে জনসংহতি সমিতি ভেঙ্গে আরেকটি এমএন লারমা নামে আরেকটি সংগঠন জন্ম লাভ করে। ইউপিডিএফ ভেঙ্গে ২০১৭ সনের ১৫ নভেম্বর জন্ম নেয় গনতান্ত্রিক ইউপিডিএফ নামে আরেকটি সংগঠন। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ভ্রাত্বিঘাতি সংঘাতে প্রতিনিয়ত সবুজ পাহাড় রক্তে লাল হয়ে উঠছে, অস্ত্রের কাছে হেরে যাচ্ছে মানুষের মানবতা আর মানবিকতা। প্রতিনিয়ত আধিপত্যে বিস্তারের লড়াইয়ে কোন পাহাড়ী তার বাবা  ভাই কিংবা কোন গৃহবধু তার স্বামী হারাচ্ছে। মায়ের কান্না, বোনের আর্তনাদ বা স্বামীর জন্য স্ত্রীর কান্না কিংবা বাবার জন্য সন্তানের হাহাকারের শব্দ যেন অস্্রধারীদের কানে পৌছায় না। এসব কান্না যেন বোবা কান্না হয়ে তাদের কাছে ফিরে আসে। অস্ত্রধারীদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে প্রতিটি পাহাড়ী পরিবার।





বিশিষ্ট পাহাড়ী ব্যাক্তিদের অনুরোধে ২০১৫ সন থেকে সংঘাত বন্ধ থাকলেও ২০১৭ সনের ১৫ নভেম্বর নবগঠিত গনতান্ত্রিক ইউপিডিএফের হাতে ৬মাসে মুল ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমাসহ অন্তত ২০জন মারা গেছে।  পাল্টাপাল্টি গোলালাগুলিতে কমপক্ষে আরো ৯জন মারা গেছে। কয়েক ধরে জেএমএস এমএন লারমা গ্রুপ ও গনতান্ত্রিক ইউপিডিএফের সাথে মুল ইউপিডিএফের সর্ম্পক খারাপ যাচ্ছিল। এর মধ্যে গুলিতে মারা যায় ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমা, ১৮ মার্চ অপহরন করা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী মন্টি ও দয়াসোনা চাকমাকে। প্রায় এক মাসেরও অধিক সময় পর তারা ছাড়া পান। একের পর এক ইউপিডিএফ নেতা কর্মীর হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে সংগঠননি। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে সর্বশেষ ৩ মে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের সহ সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে কাছ ৭/৮ রাউন্ড গুলি করে হত্যা করে। এডভোকেট শক্তিমান চাকমা নিহত হওয়ার পর আজ  মে তার শেষকৃত্যে অনুষ্ঠানে যোগদানের সময় গনতান্ত্রিক ইউপিডিএফ প্রধান তপন জ্যোতি চাকমাকে বহনকারী মাইক্রোবাসে হামলা চালানো হয়, এতে ঘটনাস্থলে ৩জন এবং হাসপাতালে ২জন মারা যায়। এর মধ্যে মাইক্রোবাস চালক বাঙালী।

একটি বেসরকারি হিসাবমতে শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে এপর্যন্ত  ৮শতাধিক নেতা কর্মী মারা গেছে। এরমধ্যে জনসংহতি সমিতির ৪শ, জেএসএস সংস্কারের ৪৯জন এবং ইউপিডিএফের ৩শ জন। সর্বশেষ গনতান্ত্রিক ইউপিডিএফের ৪জনসহ ৭জন মারা গেল।

বাংলাদেশ মানবধিকার কমিশনের সাবেক কমিশনার নিরুপা দেওয়ান বলেন, শান্তি চুক্তি ববাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশা থেকে এবং কিছু মানুষের প্ররোচনায় এসব ঘটনা ঘটছে। আমরা পাহাড়ে সংঘাত চাই না, শান্তি চাই। শান্তি প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক দল এবং সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সংঘাত যে কোন উপায়ে বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আহবায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে যাতে মানুষ নির্বিঘেœ ভোট দিতে না পারে সে জন্য মানুষের ভয় ভীতি সৃষ্টি জন্য এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে এত আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তারা ইচ্ছা করলে সংঘাত বন্ধ করতে পারে। পাহাড়ের মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এদিকে চাকমা সার্কেল ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন, পাহাড়ে সংঘাত কিছুদিন বন্ধ ছিল কিন্তু যারা পাহাড়ে শান্তি চায় না তারা এসব দল সৃষ্টি করে। আমরা কারো বুক খালি হোক সেটা চাই না, সমস্যা থাকলে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। তবে সশস্ত্র সংঘাত কারো জন্য কল্যানকর নয়, কারো ফাদে আমরা যেন পা না দেই বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

পাহাড়ের রাজনীতি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions