মঙ্গলবার | ১৬ অক্টোবর, ২০১৮
আলোচিত-সমালোচিত ছাত্রলীগ নেতা

নুরুল আজিম রনির পাশে প্রকাশ চাকমা

প্রকাশঃ ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:০৭:০৪ | আপডেটঃ ১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:০৬:৪০  |  ২৩৫৭
সাম্প্রতিক বহুল আলোচিত-সমালোচিত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে নিয়ে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমার ফেইসবুক ষ্ট্যাটাস। তিনি বলেন, রনির ছাত্ররাজনীতির জীবন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং তাকে মুজিব দর্শনে আর্দশিত পথচলা যেন অবিরাম হয় সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

নিম্নে প্রকাশ চাকমার ফেবু ষ্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

নুরুল আজিম রনি মুজিব আদর্শের চেতনাবোধ থেকেই সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে সম্মান রেখে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকান্ডের কারনে সংগঠনের পবিত্র ভাবমূর্তি যেন ক্ষুন্ন নাহয়; সেজন্য নিজ দায়িত্বে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাঁকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে একই ইউনিটের জৈষ্ঠ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগিরকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন।

এজন্য সহযোদ্ধা/বন্ধুবর রনিকে এবং বিষয়টি যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেওয়াই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানায়। এটাই স্বাভাবিক হওয়া উচিত ছিল।

এখন তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকান্ডের যেসকল অপরাধ সেগুলোর মামলার তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অপরাধী হিসেবে তাঁর সাজা হবে, জেল হবে এটিও স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যে মানুষটি প্রায় চারটি বছর চট্টগ্রাম মহানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করলো.......অব্যাহতির পরপরই জামাত-শিবিরের সম্পৃক্ততা আছে অপবাদ দিয়ে/মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে কেন আমরা মানসিকভাবে হয়রানি করছি? যদি সত্যিকার অর্থে জামায়াত-শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে এতদিন প্রতিবাদ হলোনা কেন? যদি সম্পৃক্ততা থেকেই থাকে মহানগর আওয়ামীলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান এবং ¯’ানীয় সাবেক ছাত্রনেতারা ও এর দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারবেনা!

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন নির্বাহী পদে দায়িত্ব থাকা ছাত্রনেতার পিছনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরকম প্রতিহিংসামূলক/বিভ্রান্তমূলক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া থাকবে এটিও স্বাভাবিক।

এবং সবচেয়ে অবাক লাগছে..........!!
"বাংলাদেশ প্রতিদিন" নামক জাতীয় দৈনিক পত্রিকাটি ঐসব ভিত্তিহীন তথ্য যখন পত্রিকায় প্রকাশ করার কয়েক ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর ঐ পত্রিকার প্রকাশনা/সম্পাদনা পর্ষদ ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে........তখন ফাঁসি দেওয়ার কয়েক ঘন্টার পরে অপরাধী নির্দোষ প্রমাণের সমমান। পত্রিকার কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানায় অতিদ্রুত ভূল স্বীকার করে তথ্য বিভ্রান্তিতে যাঁদের হাত ছিল তাদের অপসারণ করার জন্য। রনির ভাগ্য ভালো অন্তত রাজনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর মামলাটি দ্রুতগতিতে সে খালাস পেয়েছে।

বিষয়টি এখানেই অস্বাভাবিক মনে হয়..........!!!
ফেব্রুয়ারী মাসে সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওটি এপ্রিলের ১৮তারিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছয় মিনিটের ভিডিওতে রনির প্রতিপক্ষ কোচিং সেন্টারের পরিচালক রাশেদ তাঁর নিজ কার্যালয়ে থাপ্পরগুলো স্বেচ্ছায় মেনে নিচ্ছে, নিরবতা পালন করছে অর্থাৎ সে তাঁর দোষগুলো নিরবে মেনে নি”েছ।

ভিডিওতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে ব্যবসায়ী রাশেদ মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ছয় মিনিট ধৈর্য্য-সহ্য করে কৌশল অবলম্বন করলে দেওয়ানা-পাওয়ানা লেনদেনের টাকা হজম করবে।

রনি আবেগী হয়ে ভূল করেছে...... সে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে শাস্তি পাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ভূলের মাশুল গুনছে (আমার ব্যক্তিগত ধারণা)

তার পাশে কেউ না থাকলেও অন্তত সুযোগ পেয়েছি বলে ইচ্ছেমত তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে অন্যগ্রুপকে খুশি করবো এবং আ¯’াভাজন হবো এই স্বার্থ থেকেই যদি কোন ছাত্রলীগ কর্মী তাঁর বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে; তা হবে সংগঠনটির আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। কারণ তাঁর পক্ষেও অনেক মানুষ আছে.....সময়ের প্রতিকূলতার কারনে হয়তোবা মুখ খুলছেনা, পক্ষে বলছেনা। তাঁরও হাজারো অনুসারী তৈরি হয়েছে যা সে নিজ হাতে সংগঠনের স্বার্থে তৈরি করেছে.........যাঁরা জামাত-শিবির ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে দাঁড়াবে.......যুদ্ধ করবে। রনির না হয় মন ভেঙ্গেছে কিন্ত দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের সহযোদ্ধাদের মন ভেঙ্গে সংগঠনের ক্ষতি করে কি লাভ? রনি শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত হলে দুঃসময়ে তাঁর অনুসারীদের কার্যকলাপ আমরা অনেক আগে বুঝতে পারতাম!!!

চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির অভাব নেই। এখানে কে কার অনুসারী কে কোন মতাদর্শী, কার সাথে কার সখ্যতা ঘনিষ্টতা সব তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে নেই এবং তা নেত্রী কিছুই জানেন না মনে করলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন!!!

আমি মনে করি....... চট্টগ্রামে রনি জামাত-শিবিরের বিশেষ টার্গেটে পরিণত হয়েছে। সে আর ছাত্ররাজনীতি করবেনা কারো প্রতিপক্ষও হবেনা। অন্তত একজন মুজিব আদর্শের সৈনিক হিসেবে তাঁকে মানসিকভাবে বাঁচিয়ে রাখা দরকার।

মনে রাখবেন আবেগের এই সংগঠনটিতে আমাদের আজকের পদ-পদবী কোনটি স্থায়ী নয়......আমরাও সাবেক হবো। রনি জীবন থেকে শিক্ষা নিয়েছে...........আশাকরি সেই শিক্ষার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগাবে।

রনির বিদায়টি তাঁর ছাত্ররাজনীতির জীবনে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক! মুজিব দর্শনে আদর্শিত পথচলা যেন অবিরাম থাকে সেই প্রত্যাশা করছি।

(এটি লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত মন্তব্য)

মুক্তমত |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions