শুক্রবার | ১৮ জানুয়ারী, ২০১৯

বান্দরবানের ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক পায়নি

প্রকাশঃ ০৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৯:৪৯:২২ | আপডেটঃ ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ ১০:৪৯:৩২  |  ১২৩
সিএইচটি টুডে ডট কম, বান্দরবান। নতুন বছরের প্রথম দিন নিজস্ব ভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক পাওয়ার কথা ছিল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের আর তার জন্য বান্দরবান শহরের রাজার মাঠে ১জানুয়ারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে করা হয়েছিল বর্ণাঢ্য বই বিতরণ উৎসব। কিšু‘ এই বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষায় মুদ্রিত পাঠ্য বই বিতরণ করা হলেও সরকারি ঘোষণা অনুয়াযী ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠার ভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়নি।

এদিকে বছরের প্রথম দিন সিলেবাস অনুযায়ী বাংলা,ইংরেজী,গণিত,সামজ,বিজ্ঞান ইত্যাদি বই পেলেও ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণীর জন্য সরকারি রচিত চাকমা,মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার বই হাতে পায়নি বান্দরবানের ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার্থীদের। আর বছরের প্রথম দিকে নিজ মাতৃভাষায় প্রণিত বই না পাওয়ায় হতাশ বান্দরবানের ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকেরা।


বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণরি ছাত্র মং শৈ মার্মা বলেন,বছরের প্রথম দিন আমরা আমাদের মাতৃভাষার বই হাতে পাওয়ার আগ্রহ ছিল,কিন্তুু বিদ্যালয়ে গিয়ে শুনলাম আমাদের বই আসেনি। বছরের শুরুতেই বই না পাওয়ায় খুব কষ্ট পেলাম।

বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মংখিনু মার্মা বলেন,আমরা মনে করেছিলাম বছরের শুরুতেই আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় প্রণিত বইগুলো হাতে তুলে দিব এবং পড়ালেখা শুরু করব ,কিন্তু সঠিক সময়ে বই না পাওয়ায় আমরা হতাশ।


এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সরকারি ঘোষনা অনুযায়ী বছরের শুরুতেই ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত বইগুলো হাতে পেলে শিক্ষার্থীদের আনন্দটা অনেক বেড়ে যেত,আর সেই সাথে সাথে সমান তালে লেখাপড়াটা ও এগিয়ে যেত।

বান্দররবান ডনবস্কো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পুলুষে মার্মা জানান,আমরা গত বছর সঠিক ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত বইগুলো পেয়েছিলাম এবং পড়ালেখা শুরু করেছিলাম ,কিন্তু এবছর এখনো পর্যন্ত আমাদের বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত বইগুলো আসেনি ।

বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিং ম্যায়ী বলেন, আমরা ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত বইগুলো পেলে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী,১ম শ্রেণী ও ২য় শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করব,তবে এখনো আমাদের বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত নতুন বছরের কোন বই আসেনি।
বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, বান্দরবান জেলার ৪৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য চাকমা ভাষায় ২২২টি, মারমা ভাষার ২১৮১ টি ও ত্রিপুরা ভাষায় ৪৮৪টি, প্রথম শ্রেণি চাকমা ভাষায় ২৩৬টি ,মারমা ভাষায় ২৫৬৭টি,ত্রিপুরা ভাষায় ৫৮৬টি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য চাকমা ভাষায় ২৩৪টি,মারমা ভাষায় ২৬০২টি ও ত্রিপুরা ভাষায় ৬০৮টি সর্বমোট  ৯ হাজার ৭শত ২০টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে।

কিšু‘ বাংলা ভাষায় রচিত সব পাঠ্য পুস্তক বান্দরবানে চলে আসলে ও ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত প্রাক প্রাথমিক শ্রেনীর কোন বই এখনো জেলায় পৌঁছেনি এবং ১ম ও ২য় শ্রেনীর চাকমা,মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার তিন সেটের মধ্যে এক সেট বই এখনো আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শহীদুল ইসলাম জানান, ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত চাকমা,মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার বইগুলো ছাপানো হয়েছে তবে এখনো বান্দরবান জেলা অফিসে সবগুলো বই আসেনি,আসলেই আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বইগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করব। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই সরকারি সিদ্বান্ত অনুযায়ী ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষার বইগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাক এবং সবাই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক।


স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, কালক্ষেপন না করে দ্রুত সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বছরের প্রথম মাস থেকেই ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত চাকমা,মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার বইগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হোক, আর বাংলা ভাষার বইয়ের সাথে সাথে নিজ মাতৃভাষায় রচিত বইগুলো অধ্যায়ন করে ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাক।

শিক্ষা |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions