বুধবার | ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮

চীবর উৎসর্গ করার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো কঠিন চীবর দান উৎসব

প্রকাশঃ ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০৪:৪৮:১১ | আপডেটঃ ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:৫২:৩২  |  ২৬২
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি।  চীবর উৎসর্গ করার মধ্যে দিয়ে রাঙামাটি রাজবন বিহারে শেষ হলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব পয়তাল্লিশ তম কঠিন চীবর দান উৎসব।  বৃহস্পতিবার বিকালে বেইন ঘরে সুতা কাটার মাধ্যমে চীবর বানানোর কাজ শুরু হয়। বিকাল ৩টায় চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় এবং রাণী ইয়েন ইয়েন বেইন ঘরে সুতা কাটার মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন।

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবব্দশায় মহাপূর্নবতী বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে সূতা কাটা শুরু করে কাপড় বয়ন, সেলাই ও রং করাসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয়ে থাকে বলে একে কঠিন চীবর দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ পদ্ধতিতে দান করলে কায়িক-বাচনিক এবং মানসিক পরিশ্রম অধিকতর ফলদায়ক হয় বলে বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাই বিশাখা প্রবর্তিত এ ঐতিহাসিক নিয়ম অনুসারে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাহাড়ী নারীরা চরকায় তূলা থেকে সূতা বের করে বেইনের (কোমড় তাঁত) মাধ্যমে সেই সূতা দিয়ে কাপড় বুনন ও রং করে চীবর প্রস্তুত করে তা দান করা  হয়। এজন্য এ দানকে কঠিন চীবর দান হিসেবে অভিহিত করা হয়।

অপরদিকে তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ লোকজনের সমাগম ঘটেছে। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে বন বিহারের আশেপাশে রকমারী জিনিসপত্রের দোকান, খাবার দোকান ও নাগর দোলা বসানো হয়েছে। দৃশ্যত রাঙামাটি শহর এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

২৪ ঘন্টায় তৈরি করা চীবরটি সমবেত পূণ্যার্থীদের পক্ষে মহাপরিনির্বাণ লাভী মহাসাধক শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের উত্তরসূরি ও রাজবন বিহারের আবাসিক ভিক্ষুপ্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরকে হস্তান্তর করে উৎসর্গ করেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। এ সময় রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, চাকমা রাণী য়েন য়েন রায়, রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রিয়াদ মেহমুদ, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, রাঙামাটি সদর জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদায়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুস্মিতা খীসা।
অনুষ্ঠানে রাজবন বিহারের আবাসিক ভিক্ষুপ্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির পূণ্যার্থীদের মাঝে ধর্মীয় দেশনা দেন। এ সময় শ্রীমৎ জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির, শ্রীমৎ ইন্দ্রগুপ্ত মহাস্থবিরসহ শতাধিক বৌদ্ধভিক্ষু মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।    

প্রতি বছর মহামতি গৌতম বুদ্ধের প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে রাজবন বিহারে আয়োজন করা হয় কঠিন চীবর দানোৎসব। প্রায় আড়াই হাজার বছরেরও আগের ঐতিহ্যবাহী এই নিয়মে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সুতা কেটে বুনন ও তৈরি শেষে চীবরটি (বৌদ্ধভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র) দান করা হয় বৌদ্ধভিক্ষুদের সমীপে।



এবারের বেইন ঘরের ২০০টি কোমড় তাঁতের চরকা চরকীতে ২৫০শ  জন পাহাড়ী ধর্ম প্রাণ নারী ২৪ ঘন্টার মধ্যে চরকায় তূলা থেকে সূতা বের করে কাপড় বুনন, রংকরণ ও সেলাই করে চীবর (কাপড়) প্রস্তুত করেন। আজ বিকালে এসব চীবর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কাছে দান করা হয়।

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions