শনিবার | ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

কাউখালী বিআরডিবি সমিতি নির্বাচনে পক্ষপাতের অভিযোগে এনে ২জন সদস্যর পদত্যাগ

প্রকাশঃ ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০৯:৩৬:৫১ | আপডেটঃ ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০২:৫৯:৪৬  |  ২৭৪
বিশেষ প্রতিনিধি, সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দীন রুমির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে কমিটির মোট ৩ সদস্যর মধ্যে ২ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এরা হলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সদস্য রাবেয়া বেগম ও আলমগীর হোসেন।

রাবেয়া বেগেম বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দীন সম্পূর্ণ পক্ষপাত মুলক আচরণ করে যাচ্ছেন। এখানে গণতান্ত্রিক কোন পরিবেশ নেই।

আলমগীর হোসেন বলেন, আশা করেছিলাম একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেব কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের কোন কথা আমলে নিচ্ছে না আশরাফ।  যা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ বেআইনী। সভাপতি পদে যিনি একমাত্র প্রার্থী হয়েছেন তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। সবগুলোর অভিযোগের সত্যতা আছে। তার নির্বাচন করার বৈধতাও নেই। কিন্তু কোনটিই আমলে নেওয়া হচ্ছে না।

উপজেলা বিআরডিবি কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী ৫ নভেম্বর উপজেলা বিআরডিবি সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আলোকে সভাপতি পদে একজন, সহ সভাপতি পদে একজন এবং সদস্যও চারটি পদের নির্বাচনের জন্য ৭ ও ৮ অক্টোবর মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ,  ১১ অক্টোবর জমাদান , ১৪ অক্টোবর বাচাই,  ২২ অক্টোবর বৈধ প্রার্থী ঘোষণা ও প্রতীক বরাদ্ধ এবং ৫ নভেম্বর  ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।  

পদত্যাগ করা সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন এক কথায় বলতে মুলত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সবাইকে নির্বাচন করতে যা যা করণীয় তা করছে আশরাফ। আমরা দুজন্য সদস্য মতামতের কোন গুরুত্ব না দেওয়ায় পদত্যাগ করেছি।
রবিবার ( ১৪ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে কাউখালীর বিআরডিবি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ১২/১৫ জনের একদল যুবক বিআরডিবি কার্যালয়ের পাশে বসে আছে। এরা সবাই বেলালের লোক বলেন বিআরডিবির এক কর্মচারী।

কার্যালয়ের বিআরডিবি কর্মকর্তার কক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দীনের সাথে নানান কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় মো. বেলাল উদ্দীনকে। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর বাইরে থেকে চেয়ার এনে বসার ব্যবস্থাও করে দেন বেলাল।

পরে বেলালকে বাইরে যাওয়ার অনুরোধ করে কথা হয় আশরাফ উদ্দীনের সাথে। তিনি বলেন, সব ঠিক আছে। বেলালের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে এগুলো আমি খতিয়ে দেখেছি। অফিসিয়ালভাবে কোন ডকুমেন্ট নেই ঠিক তবে সব ঠিক আছে। এ সময় প্রতিবাদ করে বসেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্য আলমগীর হোসেন। বলেন, আপনি আমাদের কথা শুনতেছেন না। পাশে ছিলেন কমিটির অন্য সদস্য রাবেয়া বেগমও।

এ ব্যাপারে কাউখালী বিআরডিবির সমিতির বর্তমান সভাপতি মনসুর বলেন, আমি বিআরডিবি’র এখনো কার্যকর সভাপতি। এবারও সভাপতি নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে জমা দিতে পারিনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক বেলালই একমাত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। জমা দেওয়ার পর  বেলাল ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা পুরো সন্ত্রাসী কায়দা আমার কক্ষ দখল করে চেয়ারে বসে থাকে। আমি অফিসে পর্যন্ত যেতে পারছি না। আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

বেলাল বলেন, আমি কাউকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা প্রদান করিনি। আমি বাধা দিতে যাব কেন ?  আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা ইউসুফ হাসান চৌধুরী বলেন, কাউখালী বিআরডিবি সমিতির নির্বাচন হচ্ছে জানি। তবে সমস্যা ও পদত্যাগ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জানি না।

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions